01/21/2026 বাংলাদেশ–ভারত উত্তেজনার মধ্যেও নির্বাচন খুলতে পারে ‘সমঝোতার নতুন দরজা’: মাইকেল কুগেলম্যান
odhikarpatra
৮ January ২০২৬ ২৩:৫৫
বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান। তার মতে, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও কৌশলগত স্বার্থ বিবেচনায় নির্বাচন-পরবর্তী সময়েই খুলতে পারে দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন ‘সমঝোতার পথ’।
অনলাইন পররাষ্ট্রবিষয়ক সাময়িকী ফরেন পলিসি-তে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান লিখেছেন, দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন সত্ত্বেও ভারত এখন বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য নতুন সরকারের প্রতি তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা এবং ঢাকায় জানাজায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতি দিল্লির কৌশলগত অবস্থান বদলের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। কুগেলম্যানের মতে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোট ভেঙে বেরিয়ে আসায় বিএনপি এখন ভারতের কাছে আগের তুলনায় বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।
তিনি লেখেন, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়, যা কূটনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে ক্রীড়াঙ্গনেও প্রভাব ফেলেছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে এবং বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে।
কুগেলম্যানের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে একটি বড় অংশের জনগণ মনে করে ভারত দীর্ঘদিন ধরে তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে ভারতের ধারণা, শেখ হাসিনাবিহীন বাংলাদেশে কট্টরপন্থীদের উত্থানের ঝুঁকি বেড়েছে। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানানো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে, বিশেষ করে যখন বাংলাদেশি আদালত তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন।
দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও সম্পর্ক উন্নয়নের বড় বাধা হিসেবে দেখছেন এই বিশ্লেষক। বাংলাদেশে প্রভাবশালী ইসলামপন্থী দলগুলোর একটি অংশ ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরোধিতা করে, যা নতুন সরকারের কূটনৈতিক পরিসর সীমিত করতে পারে।
অন্যদিকে ভারতে সংখ্যালঘু ইস্যু ও বাংলাদেশে কিছু মানবাধিকার কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ দিল্লির অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে। তবে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের জাতীয় ঐক্যের আহ্বান এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা ভারতকে কিছুটা আশাবাদী করছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে কেবল ‘সমঅধিকারভিত্তিক’।
পরিশেষে মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য সম্পর্কের বরফ গলানোর একটি বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এই সুযোগ বাস্তবে রূপ দিতে হলে উভয় পক্ষকেই রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে বাস্তবমুখী সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।
ভারত ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশে নির্বাচিত যেকোনো সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। ফলে আগামী দিনে ঢাকা ও দিল্লির নেতৃত্ব কতটা সাহসী ও কৌশলী কূটনীতি গ্রহণ করতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। সাধারণ মানুষের আবেগ ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয় ঘটিয়ে একটি স্থিতিশীল ও মর্যাদাশীল সম্পর্ক গড়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
#বাংলাদেশ_ভারত #বাংলাদেশ_নির্বাচন #মাইকেল_কুগেলম্যান #BNP #IndiaBangladeshRelations #ঢাকা_দিল্লি #কূটনীতি #জাতীয়_নির্বাচন #SouthAsiaPolitics