01/27/2026 আবু বকর (রা.)-এর আয়নায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব: ভোটের আগে শেষ ভাবনা (২য় পর্ব)
Dr Mahbub
২৭ January ২০২৬ ০৮:৪০
— পূর্ব প্রকাশের পর (দ্বিতীয় পর্ব) সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ: ত্যাগের মহিমা ও ঐক্যের আহ্বান
Abu Bakr (R.A.) in the Mirror of Leadership: How Relevant Is His Legacy to Contemporary Politics? নেতৃত্বের দর্পণে আবু বকর (রা.): আজকের রাজনীতিতে কতটা প্রাসঙ্গিক?
জাতীয় নির্বাচন এখন সময়ের প্রশ্ন। পাঁচ বছর পর পর এই দেশের মানুষ ব্যালট হাতে তুলে নেয়, নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার আশায়। কিন্তু এই বেছে নেওয়া কি কেবল রাজনৈতিক প্রতীক দেখে? নাকি সময় এসেছে, চরিত্র দেখার?
আমাদের দেশে অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা পেশাদার রাজনীতিবিদ—তাঁদের জীবনের ধ্যানজ্ঞানই রাজনীতি। কেউ ছাত্র রাজনীতি থেকে এসেছেন, কেউ পারিবারিক ঐতিহ্যে, কেউ কেউ আবার হঠাৎ করে এসে স্থায়ী হয়ে গেছেন। কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছেন—নেতৃত্ব কাকে বলে? কাকে অনুসরণ করলে জাতি নিরাপদে থাকবে?
আমরা যদি নেতৃত্বের মানদণ্ড হিসেবে হজরত আবু বকর (রা.)-এর জীবনকে দেখি, তাহলে বুঝতে পারি নেতৃত্ব মানে শুধু ক্ষমতা নয়, বরং এটি একটি দায়িত্ব—আল্লাহর এবং জনগণের কাছে জবাবদিহির দায়িত্ব।
"আমি তোমাদের শাসক নিযুক্ত হয়েছি, কিন্তু আমি তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নই" — আবু বকর (রা.)। — খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর হজরত আবু বকর (রা.) বলেছিলেন, "তোমরা যদি আমাকে সঠিক পথে পাই, তবে আমার অনুসরণ করো। আর যদি বিপথগামী দেখি, তবে আমাকে সংশোধন করো।" একবার ভাবুন, আমাদের কোনো রাজনীতিক কি এমন কথা বলেন? বরং আমরা দেখি, ক্ষমতায় গেলে নেতা হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য, অপ্রশ্নযোগ্য। সমালোচনার জায়গায় আসে প্রতিশোধ।
আবু বকর (রা.) কখনোই নেতৃত্ব চাননি। নেতৃত্ব তাঁর উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর এখন? আমাদের দেশে অনেকেই রাজনীতি করেন শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। নির্বাচনের সময় একরকম, আর নির্বাচনের পর আরেক রূপ—এই দ্বিচারিতা কেন? একজন প্রকৃত নেতা হলে জনগণের কথা ভাবতেন, নিজের নয়। আবু বকর (রা.) খলিফা হওয়ার পর তাঁর বেতন বাড়াতে হলে সাহাবীদের মতামত নিতেন, এমনকি নিজের কাপড় বিক্রি করেও রাষ্ট্রীয় কাজে খরচ করতেন। আজকের নেতারা কি রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে নিজের মনে করেন?
আবু বকর (রা.) ছিলেন সত্যের রাহবার। মদিনার দরিদ্র এক বৃদ্ধার ঘর ঝাঁট দিতেন, তাঁর খাবার রান্না করে দিতেন—খলিফা হয়েও! আর আমাদের দেশে? একজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের পরে পাঁচ বছর নিখোঁজ থাকেন, জনগণ তাঁর নাগালই পায় না। নেতা যদি সেবক না হন, তবে তিনি নেতা হতে পারেন?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই আদর্শ কতটা প্রয়োজনীয়?
আজকে বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ন্যূনতম শিষ্টাচার অনুপস্থিত, সেখানে আবু বকর (রা.)-এর মতো একজন নেতা আদর্শ হতে পারেন। তিনি ছিলেন ন্যায়ের প্রতীক, আত্মনিয়ন্ত্রণের রোল মডেল, আর সবচেয়ে বড় কথা—তিনি ক্ষমতা পেয়ে বদলাননি, বরং আরও বিনয়ী হয়েছেন। এই মূল্যবোধই আমাদের দরকার। রাজনৈতিক মঞ্চে ধর্ম নিয়ে কথা হয়, কিন্তু ধর্মীয় আদর্শের বাস্তব প্রয়োগ কোথায়?
ভোটারদের জন্য একটি প্রশ্ন
নির্বাচন যখন দরজায়, তখন প্রশ্ন voters-দের কাছে। আপনি কি কেবল পছন্দের দলে ভোট দেবেন? নাকি পছন্দ করবেন এমন একজনকে, যার মধ্যে আবু বকর (রা.)-এর মতো নেতৃত্বের ছাপ আছে?
শেষ কথায়—আদর্শের পথ হারালে, লক্ষ্যও হারায়
এই দেশ হঠাৎ করে পথ হারায়নি। আমরা বারবার ভুল পথে হেঁটেছি, ভুল নেতৃত্বে ভরসা করেছি। এখন সময় এসেছে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে নেতা বেছে নেওয়ার। আবু বকর (রা.) আমাদের দেখিয়েছেন, নেতৃত্ব মানে চরিত্র, সহমর্মিতা আর ভয়ভীতি ছাড়াও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা। এই আদর্শ অনুসরণ করলেই বাংলাদেশ মুক্তির আলো দেখবে। না হলে, আমরা শুধু আরেকটা ভোট দিবো—ভবিষ্যতের কোনো নিশ্চয়তা ছাড়াই।
✍️ –অধ্যাপক ড. মাহবুব লিটু, উপদেষ্টা্ সম্পাদক, অধিকারপত্র (odhikarpatranews@gmail.com)
🔁 আপনার মতামত আমাদের জানাতে পারেন: odhikarpatranews@gmail.com
#নির্বাচন_২০২৬_বাংলাদেশ, #ভোটের_আগে_ভাবনা, #ইসলামি_নেতৃত্ব_আদর্শ, #হজরত_আবু_বকর_রা, #ইসলামিক_পলিটিক্যাল_থট, #বাংলাদেশ_রাজনীতি_বিশ্লেষণ, #ভোটারদের_দায়িত্ব, #আদর্শ_নেতা_কেমন_হওয়া_উচিত