01/30/2026 শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত
odhikarpatra
২৯ January ২০২৬ ১৩:৩০
নিজস্ব প্রতিবেদক, অধিকারপত্র ডটকম:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন।
জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্টেডিয়ামে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আয়োজিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঞ্চের সামনে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তেই তা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। সংঘর্ষে সভামঞ্চের কয়েকশ চেয়ার ও বেশ কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এতে দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
নৃশংস হত্যাকাণ্ড:
অভিযোগ উঠেছে, সন্ধ্যায় ঝিনাইগাতী শহরে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের সময় মাওলানা রেজাউল করিমকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শী জামায়াত নেতা আবদুল মান্নান জানান, "বিএনপি নেতাকর্মীরা রেজাউল করিমকে একা পেয়ে ধরে ফেলে এবং ইট দিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেয়।"
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঝিনাইগাতী ও পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জামায়াতের আল্টিমেটাম ও প্রশাসনের ভূমিকা:
জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান এই ঘটনাকে 'পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাবে জামায়াতে ইসলামী। পরিস্থিতির অবনতি হলে তার দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।"
অন্যদিকে, শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি:
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রেজাউল করিমের গ্রাম চাউলিয়ায় গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে আছে প্রিয় নেতার মরদেহের অপেক্ষায়। নিহত রেজাউল করিম ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক এবং একজন মসজিদের ইমাম ছিলেন। শেরপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক উপল হাসান জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।