03/11/2026 ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনে ডিজেল সরবরাহ শুরু: জ্বালানি সংকটে স্বস্তির আভাস
Special Correspondent
১১ March ২০২৬ ০৩:৫৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাম্পিং কার্যক্রমের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেলের প্রথম চালানটি বাংলাদেশে পাঠানো শুরু হয়। আজ বুধবার (১১ মার্চ) ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের এই প্রথম চালানটি দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আসা শুরু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশের জ্বালানি বাজারে যে চাপের সৃষ্টি হয়েছে তা সামাল দিতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ জানান, এই আমদানির ফলে পরিবহন খরচ ও সময় উভয়ই সাশ্রয় হবে। এর আগে গত রবিবার (৮ মার্চ) অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। সেই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই দ্রুততম সময়ে এই সরবরাহ শুরু হলো।
চুক্তি ও সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে ২০১৭ সালে ভারতের সাথে ১৫ বছর মেয়াদি এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী:
দাম বাড়ছে না বিকল্প উৎসও প্রস্তুত
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, বাজারে অস্থিরতা থাকলেও এখনই তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তিনি আরও জানান, ভারত ছাড়াও সমুদ্রপথে জ্বালানি আসছে। গত সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলো থেকে বিকল্প আমদানির পরিকল্পনা রেখেছি। এছাড়া চীনও বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
চাহিদার উল্লম্ফন ও জনজীবন
বর্তমানে দেশে জ্বালানির চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সরকারি হিসাব মতে, অকটেনের দৈনিক চাহিদা ১,১০০ টন থেকে বেড়ে ২,০০০ টনে এবং ডিজেলের চাহিদা ২৫,০০০ টনে পৌঁছেছে। চাহিদার এই চাপে অনেক জায়গায় রেশন করে তেল বিক্রি করা হলেও নতুন এই সরবরাহগুলো আসার ফলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র