11/08/2026 শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়া চলছে, আবেগের জায়গা নেই: আইনমন্ত্রী
odhikarpatra
৮ November ২০২৬ ১৯:২৭
ঢাকা: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে বাংলাদেশ সরকার। এ ক্ষেত্রে আবেগ নয়, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই সরকারের অবস্থান বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি শেখ হাসিনাকে ‘ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত অপরাধী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে এবং ভারতের কাছে দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “আমার কাছে তিনি একজন অপরাধী। আমাদের ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত একজন অপরাধী—আমাদের কাছে এটাই তাঁর পরিচয়।”
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার বিষয়ে আইনগতভাবে যা যা করণীয়, সরকার তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় করছে। এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে আবেগের স্থান নেই; আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দেখছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোন মন্ত্রণালয় কাজ করছে—এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, বিষয়টি সরাসরি আইন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নয়। ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির বিষয় হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রক্রিয়া দেখছে।
ভারতের কাছে অনুরোধ পাঠানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত তাঁকে হস্তান্তর করলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারতের আদালতে আইনি লড়াই করতে হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সেটি ভারতের সরকারের বিষয়। বাংলাদেশ তার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুরোধ জানিয়েছে।
‘রাষ্ট্রীয় অতিথি’ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য
এক সাংবাদিকের প্রশ্নে শেখ হাসিনাকে ভারতে বন্দি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে বিবেচনা করার প্রসঙ্গ ওঠে। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে যেভাবেই বিবেচনা করুক, তাতে বাংলাদেশের আইনি অবস্থান বদলে যায় না।
এ সময় তিনি ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত বা পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন। তিনি বিচারপ্রক্রিয়া উন্মুক্ত আদালতে হয়েছে এবং সাক্ষীদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। এগুলো আইনমন্ত্রীর বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; স্বতন্ত্রভাবে যাচাইকৃত পরিসংখ্যান হিসেবে নয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যান শেখ হাসিনা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে তাঁর টানা প্রায় ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে অনুপস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য একটি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
জাতিসংঘের হিসাবে, ওই দমন-পীড়নে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। শেখ হাসিনা রায় ও ট্রাইব্যুনালের বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুরোধ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের প্রচলিত আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে ভারত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। ফলে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আপাতত দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি, ভারতের আইনি পর্যালোচনা এবং কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
অধিকারপত্রের পর্যবেক্ষণ: বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো এবং ভারত তা পরীক্ষা করছে—এ দুটি তথ্য নিশ্চিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।