odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 20th October 2026, ২০th October ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের পতাকা আঁকা নিয়ে সংঘর্ষ, প্রশাসন-শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৬ December ২০২৫ ০৮:২৬

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৬ December ২০২৫ ০৮:২৬

অধিকার পত্র ডটকম 

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে বিজয়ের প্রথম প্রহরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাম্পাসের সড়কে পাকিস্তানের পতাকা আঁকাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে রাতভর বিক্ষোভ ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চলে। এ সময় উপাচার্য ও প্রক্টরসহ প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পালিত হয় বলে জানা গেছে।

এর আগে, রাত একটার দিকে বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাঙালির ওপর সংঘটিত নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে চারুকলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের সড়কে পাকিস্তানের পতাকা অঙ্কন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের একাংশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।

পরবর্তীতে ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং ‘রাজাকারদের’ বিরুদ্ধে প্রতীকীভাবে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। রাতেই প্রধান ফটকের সামনে আবারও পাকিস্তানের পতাকা অঙ্কন করা হয়। এরপর প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।

এ ঘটনার মধ্যে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। হামলার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন—দৈনিক কালের কণ্ঠের মিনহাজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো দেশের পতাকা অঙ্কনের ক্ষেত্রে পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই গেটে পতাকা আঁকতে শুরু করলে প্রক্টরিয়াল টিম বাধা দেয়। তা সত্ত্বেও তারা অঙ্কন সম্পন্ন করে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।