নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
আসন্ন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ এবং পাহাড়ি জনপদসহ দেশব্যাপী বর্ষবরণের সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকেল ৫টার পর রাজধানীর প্রধান উৎসবস্থলগুলোতে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
উৎসবস্থলে প্রবেশ ও সময়সীমা
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশব্যাপী আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আবশ্যিকভাবে শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কোনো মানুষ প্রবেশ করতে পারবে না।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিশেষ কড়াকড়ি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বা মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে:
অংশগ্রহণকারীরা মুখে মুখোশ পরতে পারবেন না, তবে হাতে বহন করতে পারবেন।
প্রদর্শনীর মুখোশ এমনভাবে রাখা যাবে না যাতে মুখ ঢেকে যায়।
মিছিল শুরুর পর মাঝপথে কেউ এতে প্রবেশ করতে পারবে না; সবাইকে শুরু থেকেই মিছিলে থাকতে হবে।
যা যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে
নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী কয়েকটি বিষয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে:
ফানুস ওড়ানো ও আতশবাজি ফাটানো।
গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো।
রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা কার রেসিং।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও নজরদারি
গুরুত্বপূর্ণ উৎসবস্থলগুলোতে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি (সুইপিং) করা হবে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে থাকবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার রোধে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালিত হবে।
যাতায়াত ও অন্যান্য নির্দেশনা
মেট্রোরেল: ১৪ এপ্রিল নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (টিএসসি) মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যানবাহন: ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না।
সাধারণ সরঞ্জাম: সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দিয়াশলাই বা লাইটার বহন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শিশু নিরাপত্তা: শিশুদের সঙ্গে তাদের পরিচয় ও অভিভাবকের ফোন নম্বর সম্বলিত নোট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো শিশু হারিয়ে গেলে তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য রমনা এলাকায় একটি লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার স্থাপন করা হবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি বড় অনুষ্ঠানস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিকেল টিম এবং রমনা লেকে ডুবুরি দল মোতায়েন থাকবে।
সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সভায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: