অধিকারপত্র ডটকম,কুবি প্রতিনিধি :
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জেলা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর এর তদন্ত শুরু করেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম।
পরে মামলাটির তদন্তভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার জানান, দেশব্যাপী আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি এখন থেকে পরিদর্শক রাজিব আহমেদ তদন্ত করবেন। আজ-কালের মধ্যে মামলার যাবতীয় নথিপত্র তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ বলেন, পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ হয়েছে। নথিপত্র পাওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিলের চেষ্টা করা হবে।
সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তিনজনের স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
যেভাবে হত্যার ঘটনা
এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হন অপ্রতিম। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি।
এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের দিন রাতেই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন তার বাবা।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও অপ্রতিমের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া জড়িত সন্দেহে মো. সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে মাথায় বাঁশ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার মোবাইল ফোন নিয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ওই দিন সিয়াম ছাড়া অপর তিনজন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বলে পুলিশ জানায়।
অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের আদেশে গ্রেপ্তার দুই কিশোরের একজনকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে দুজন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নথিপত্র বুঝে নিয়ে পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবেন।
