অধিকার পত্র ডেস্ক
গাজীপুরের আলোচিত মাদক কারবারি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ প্রিজন ভ্যান থেকে পালানোর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, তিনি প্রিজন ভ্যান থেকে দৌড়ে পালাননি; বরং পরিকল্পিতভাবে ভ্যানের তালা খুলে তাকে একটি প্রাইভেট কারে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার এসব দাবি করেন।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমার সরাসরি জড়িত ছিলেন। আদালত থেকে আসামিদের কারাগারে ফেরার পথে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় তিনি প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে ‘পিচ্চি রাজা’কে নামিয়ে দেন এবং আগে থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেট কারে তুলে দেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
বাইমাইল থেকে পালানোর তথ্য নিয়ে প্রশ্ন
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় প্রিজন ভ্যান থামানোর পর ‘পিচ্চি রাজা’কে শৌচকর্মের জন্য গাড়ি থেকে নামানো হয়। এ সময় তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান বলে জানানো হয়েছিল।
তবে পরবর্তী তদন্তে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পারে, বাইমাইল থেকে নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই তিনি পালিয়েছিলেন।
পুলিশ কমিশনার জানান, ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে রাতে তাদের কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
ফেরার পথে তাঁতীবাজারের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে প্রিজন ভ্যান থামানো হয়। ওই সময় ভ্যানটির ইনচার্জ ছিলেন এসআই প্রবীর কুমার।
‘তালা খুলে দুই হাজতিকে নামানো হয়’
ইসরাইল হাওলাদারের দাবি, এসআই প্রবীর ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে চাবি নিয়ে প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে দেন। এরপর ‘পিচ্চি রাজা’সহ দুই হাজতিকে ভ্যান থেকে নামানো হয়।
অন্য হাজতি খাইরুল বাশারকে পরে ভ্যানের সামনের দিকে বসানো হলেও ‘পিচ্চি রাজা’কে আর ভেতরে নেওয়া হয়নি বলে জানান পুলিশ কমিশনার।
তার ভাষ্য, আগে থেকেই রাস্তার পাশে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেট কারে ‘পিচ্চি রাজা’কে তুলে দেন এসআই প্রবীর। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখিয়ে তিনি আবার পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেন।
পুলিশ কমিশনারের দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
পাঁচ পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত
ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তারা হলেন—এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন।
পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ঘটনা তদন্তে গঠিত পর্যবেক্ষণ কমিটি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
