odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 10th October 2026, ১০th October ২০২৬
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির প্রতিবাদে আগারগাঁওয়ে সিপিবি-বাসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভ; পুলিশের লাঠিপেটায় আহতের অভিযোগ

বাবা শোনো’ বললেন মন্ত্রী, বিক্ষোভকারীর জবাব—‘এখানে দেশ বিক্রি হচ্ছে, ঢুকতে দেবো না’

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৯ October ২০২৬ ২৩:৫৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৯ October ২০২৬ ২৩:৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিক্ষোভ করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং শিক্ষার্থীরা। এ সময় চুক্তিসংক্রান্ত অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের গাড়িবহর আটকে দেন বিক্ষোভকারীরা। মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বাগ্‌বিতণ্ডার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা দেড়টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সাবেক কার্যালয়, বর্তমানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

### ‘আপনি যে কাজেই এসেছেন, আজ এখানে ঢুকতে পারবেন না’

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় মন্ত্রীর গাড়িবহরের সামনে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে চুক্তির বিরোধিতা করেন। একপর্যায়ে গাড়ির জানালার কাচ নামিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মন্ত্রীকে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা কী করতে চাও?’

জবাবে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আপনি যেই মন্ত্রণালয়ের হন না কেন, আজকে এখানে দেশ বিক্রি হচ্ছে। আজকে কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেবো না। আপনি চলে যান।’

এরপর আন্দোলনকারীরা ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে জিততে চাই’ স্লোগান দিতে থাকেন।

ভিডিওতে এক বিক্ষোভকারীকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে আর কোনো কথা বলার সুযোগ নাই। কথা বলার জায়গা নাই। আপনারা যদি বাংলাদেশের পক্ষেও থাকেন, আজ এখানে আপনারা ঢুকতে পারবেন না।’

পাশ থেকে আরেকজন বলেন, ‘আপনি এসেছেন কেন? আপনারা সবার আগে যে বাংলাদেশ বলেন না—আমরা সেই বাংলাদেশের জন্য এখানে দাঁড়াইছি।’

এ সময় মন্ত্রী তাঁদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বাবা শোনো, তোমরা একজন করে বলো।’

পাশ থেকে একজন বলেন, ‘আপনি বলেন, আমরা শুনি।’

এরপর মন্ত্রী বলেন, ‘আমি যে কাজে এসেছি, সে কাজ করতে দাও। তোমরা কি আমার কাজ বন্ধ করতে চাও? আমার কাজ বন্ধ করতে চাও নাকি? আমি যে কাজে এসেছি, তা করতে দাও।’

কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তাঁদের অবস্থানে অনড় থাকেন। তাঁদের একজন বলেন, ‘আপনি যে কাজেই এসেছেন, আজ এখানে ঢুকতে পারবেন না।’

এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা বাড়তে থাকলে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রী গাড়িবহর ঘুরিয়ে অন্যদিকে চলে যান। তিনি ওই কার্যালয়ে প্রবেশ করেননি বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে।

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের লাঠিপেটা

ঘটনার পর বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছিলেন সিপিবি, বাসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশ লাঠিপেটা করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

লাঠিপেটার ঘটনায় সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা।

সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘আমরা আজ সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই বিডা ভবনের সামনে এসেছিলাম। আমরা মনে করি, এ চুক্তি বাংলাদেশকে বিক্রি করার শামিল।’

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে গেলে এ বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে। এ কারণেই তাঁরা চুক্তির প্রতিবাদ জানাতে এসেছিলেন।

সিপিবির সভাপতি আরও বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ছিল। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ বিনা উসকানিতে লাঠিপেটা করেছে। এতে আমিসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছি।’

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

 ১৫ বছরের জন্য কনসেশন চুক্তি

বিক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি সই হয়।

চুক্তি নিয়ে বিরোধিতাকারীদের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবকাঠামোর পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিলে দেশের কৌশলগত স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্ন উঠতে পারে। অন্যদিকে, এ ধরনের চুক্তির অর্থনৈতিক সুবিধা, পরিচালন দক্ষতা এবং জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত, বিনিয়োগের ধরন, রাজস্ব ভাগাভাগি ও সরকারি তদারকির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

এনসিটি বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কনটেইনার টার্মিনাল। ফলে এর পরিচালনা নিয়ে যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব এবং জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা নিয়ে জনসমক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি উঠতে পারে।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মন্ত্রীর গাড়িবহর আটকে দেওয়া এবং পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনা ঘিরে বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্কের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, চুক্তির শর্ত প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

 

: ‘বাবা শোনো’ বললেন মন্ত্রী, বিক্ষোভকারীর পাল্টা জবাব—‘এখানে দেশ বিক্রি হচ্ছে!’

 #অধিকারপত্র #চট্টগ্রামবন্দর #এনসিটি #ডিপিওয়ার্ল্ড #বিক্ষোভ #সিপিবি #বাসদ #বাংলাদেশেরঅর্থনীতি #বন্দরচুক্তি