odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 13th October 2026, ১৩th October ২০২৬
সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন; প্রশাসনিক ভবনে অসুস্থ দুজন, বাড়ছে অচলাবটস্থা।

চুয়েটে ২১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্য, তিন সপ্তাহ বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৩ October ২০২৬ ১৮:৪৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৩ October ২০২৬ ১৮:৪৭

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা দেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত উপাচার্যসহ ভবনের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা বের হতে পারেননি।

আন্দোলনকারীদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অচলাবটস্থা আরও গভীর হয়েছে। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় ভবনের ভেতরে থাকা কয়েকজনের শারীরিক অসুস্থতা ও ক্লান্তির খবরও পাওয়া গেছে।

 যেভাবে অবরুদ্ধ হলেন উপাচার্য

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁকে ভবন ছাড়ার সময় বেঁধে দেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপাচার্য ভবন থেকে বের না হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

এতে উপাচার্যের পাশাপাশি চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, তাঁর সহযোগী এবং কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী আটকা পড়েন। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবনের ভেতরে ১০ থেকে ১১ জন অবস্থান করছিলেন।

 অসুস্থ দুজন, চিকিৎসকের সহায়তা

সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। পরে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ সেখানে যান। তাঁর সঙ্গে সাংবাদিকেরাও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।

চিকিৎসক প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করে সিস্টোলিক ১৭০ এবং ডায়াস্টোলিক ১০০ মিলিমিটার পারদ পান। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভবনের ভেতরে আরও একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান চিকিৎসক। তবে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়নি।

নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি সুস্থ আছেন। তবে ভবনের ভেতরে থাকা দুজন অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছেন। এ কারণে তিনি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছেন।

দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকার কারণে অন্যরাও অসুস্থ ও ক্লান্ত বোধ করছেন বলে জানান তিনি।

 পদত্যাগের দাবি, রাতভর অবস্থান

সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরপর রাতভর প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন তাঁরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।

আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে তাঁর পদে পুনর্বহাল করতে হবে। নতুন উপাচার্যের নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে চললেও এখনো সংকটের সমাধান হয়নি।

 তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা

গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে এবং তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।

আন্দোলনের কারণে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ করার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 সমাধানের অপেক্ষায় চুয়েট

দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকা এবং প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যসহ একাধিক ব্যক্তির আটকে পড়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা ও শিক্ষাজীবনে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অচলাবস্থা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।