odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 21st October 2026, ২১st October ২০২৬
বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য নয়; সবার অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২১ October ২০২৬ ২১:৩৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২১ October ২০২৬ ২১:৩৩

বিশেষ  প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

সকল ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে দেওয়া বার্তায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।” মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এসব অধিকার বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত চলছে, তখন বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারা দেশের বড় অর্জন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বাংলাদেশের শক্তি ও অস্তিত্বের অংশ উল্লেখ করে তিনি তা যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে দৃঢ় থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতির ভাষ্য, কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া যাবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

 ধর্মীয় পরিচয়ে বৈষম্য নয়

বিজয়া দশমীর তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ উৎসবের অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন—এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যের অন্যতম ভিত্তি।

সব ধর্মের মানুষ যাতে নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।

বঙ্গভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। এর আগে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে আগত অতিথি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।