02/24/2026 ঈশ্বরের অস্তিত্ব ও যিশুর শিক্ষা: ইলন মাস্কের মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড়
Special Correspondent
২৪ February ২০২৬ ০০:৪০
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে করা একটি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত সপ্তাহে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একজনের প্রশ্নের জবাবে মাস্ক জানান তিনি যিশু খ্রিস্টের শিক্ষার সঙ্গে একমত। আর তার এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউ কেউ একে দেখছেন মাস্কের আধ্যাত্মিক পরিবর্তন হিসেবে। আবার সমালোচকদের মতে এর পেছনে হয়তো বড় কোনো নেতিবাচক খবর লুকানোর চেষ্টা চলছে।
জল্পনা বনাম বাস্তবতা
সবকিছুর শুরু হয় যখন এক ব্যবহারকারী জানতে চান কে ইলন মাস্ককে ধর্মের পথে আনবে বা ইভানজেলাইজ করবে। জবাবে মাস্ক লেখেন, আমি যিশুর শিক্ষার সাথে একমত। এই মন্তব্যের পর এক্স-এ মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এক ব্যবহারকারী সন্দেহ প্রকাশ করে লেখেন তার সম্পর্কে হয়তো খুব খারাপ কোনো খবর সামনে আসতে যাচ্ছে তাই তিনি নিজেকে সাধু প্রমাণের চেষ্টা করছেন। তবে অন্য অনেকে মাস্কের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের মতে, কেউ যিশুর শিক্ষা বা দয়া নিয়ে কথা বললেই তাকে নিয়ে নেতিবাচক তত্ত্ব খোঁজা অর্থহীন।
নাস্তিকতা থেকে ঈশ্বরে বিশ্বাস: মাস্কের বিবর্তন
ইলন মাস্কের ধর্মবিশ্বাস সবসময়ই আলোচনার বিষয় ছিল। ১৪ বছর বয়সেই তিনি নাস্তিক বা অজ্ঞেয়বাদী হয়ে পড়েন। ২০১৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মহাবিশ্বের ওপর নজর রাখছেন এমন কোনো সুপারকনশাসনেস বা অতি-চেতনা থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
তবে গত কয়েক বছরে তার এই অবস্থানে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে:
২০২২: তিনি স্বীকার করেন যে আগে অন্য গাল বাড়িয়ে দেওয়ার দর্শনকে তিনি দুর্বলতা মনে করতেন। কিন্তু এখন একে গভীর প্রজ্ঞা হিসেবে দেখেন।
২০২৪: জর্ডান পিটারসনের সাথে সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন তিনি ধার্মিক না হলেও যিশুর শিক্ষাগুলোকে বুদ্ধিদীপ্ত এবং অনুসরণযোগ্য মনে করেন।
ডিসেম্বর ২০২৫: একটি পডকাস্টে তিনি সরাসরি বলেন, আমি বিশ্বাস করি ঈশ্বর আছেন। তিনি যুক্তি দেন এই মহাবিশ্ব নিশ্চয়ই কোনো কিছুর মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে যাকে অনেকে ঈশ্বর নামে ডাকেন।
পারিবারিকভাবে ধর্মীয় পটভূমি
ইলন মাস্কের মা মে মাস্কও এই আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। তিনি জানান, তার তিন সন্তানকেই মেথোডিস্ট চার্চে দীক্ষিত করা হয়েছিল এবং তারা এপিস্কোপাল সানডে স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। তিনি বলেন আমাদের শেখানো হয়েছিল সবাইকে ভালোবাসতে। মাস্ক নিজেকে একজন 'ফিজিক্স ভিউ অফ রিয়েলিটি' বা পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বাস্তবতাকে বিশ্বাসী মানুষ হিসেবে দাবি করেন। তার মতে, প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই তিনি তার বিশ্বাস পরিবর্তন করেন। তবে ২০২৬ সালের এই নতুন মন্তব্যটি কি কেবলই তার ব্যক্তিগত দর্শনের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে তা নিয়ে নেটদুনিয়ায় বিতর্ক থামছেই না।
---মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র