03/26/2026 দৌলতদিয়া ট্র্যাজেডি: উদ্ধার অভিযানে হামজা ও ডুবুরি দল, ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা
Special Correspondent
২৫ March ২০২৬ ২২:৫০
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সৌহার্দ্য পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস অন্তত ৪০ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৯ জনকে জীবিত এবং ৪ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই কাজ করছে উদ্ধারকারী দল।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য ৩ নম্বর পন্টুনে অপেক্ষা করছিল। বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে হাসনা হেনা নামক একটি ছোট (ইউটিলিটি) ফেরি পন্টুনে ভেড়ার সময় সজোরে ধাক্কা দেয়। ফেরির ধাক্কায় পন্টুনটি সটকে গেলে বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং চোখের পলকে বাসটি যাত্রীসহ গভীর পদ্মায় তলিয়ে যায়। ঘাটের তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, আমাদের সামনেই বাসটি ডুবে গেল। বাসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪০-৪৫ জন যাত্রী ছিল। কয়েকজন জানলা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও অধিকাংশ যাত্রী ভেতরেই আটকা পড়েছেন।
উদ্ধার অভিযানের বর্তমান অবস্থা
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ এবং স্থানীয় জনতা। বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বর্তমানে বাসটিকে টেনে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে।
গভীরতা ও বাধা: ডুবুরি দল জানিয়েছে, নদী তলদেশের প্রায় ৩০ থেকে ৯০ ফুট গভীরে বাসটির অবস্থান শনাক্ত করা গেছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া: সন্ধ্যা নামার পর এলাকায় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ায় উদ্ধারকাজে চরম বিঘ্ন ঘটছে। নদীর তীব্র স্রোত ও পানির চাপে ডুবুরিরা বাসের ভেতরে প্রবেশ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
অতিরিক্ত ইউনিট: আরিচা, ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরও একাধিক ডুবুরি ইউনিট উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে।
হতাহতের চিত্র
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, নদী থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে। বাসের যাত্রী তালিকায় ৫৬ জন যাত্রী ছিলেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। যার ফলে নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানিয়েছেন, উদ্ধার কাজ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ-এর ডুবুরি দল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে রাতের অন্ধকার এবং আবহাওয়ার কারণে কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা জানান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঠিক হতাহতের সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র