05/27/2026 শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত সকাল ৯টায়, পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
odhikarpatra
২৬ May ২০২৬ ২২:১৪
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, মঙ্গলবার,অধিকারপত্র ডটকম
, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি,
দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী Sholakia Eidgah ময়দানে এবার পবিত্র ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়। জামাতকে কেন্দ্র করে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব Mufti Abul Khayer Mohammad Saifullah। বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হয়বতনগর এ. ইউ. কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক Maulana Zubayer Ibne Abdul Hai।
এছাড়া প্রতি বছরের মতো সকাল ৮টায় Suryabala Government Girls High School প্রাঙ্গণে নারীদের জন্য পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ইমামতি করবেন Maulana Mohammad Sanaullah এবং বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ধর্মীয় শিক্ষক Abdul Kaiyum।
মঙ্গলবার দুপুরে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক Sohana Nasrin, পুলিশ সুপার Mohammad Mizanur Rahman এবং Rapid Action Battalion-১৪ সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের স্কোয়াড্রন লিডার Md. Ali Noman পৃথকভাবে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
পরে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য Md. Mazharul Islam-ও ঈদ জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, ঈদগাহ মাঠ ও পুরো শহরের নিরাপত্তায় প্রায় ৬০০ পুলিশ সদস্য, দুই প্লাটুন Border Guard Bangladesh সদস্য এবং ৫৫ জন র্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে।
তিনি বলেন, মাঠে চারটি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে এবং পুরো এলাকাকে আটটি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। পাশাপাশি নয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, পুরো ঈদগাহ মাঠজুড়ে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হবে।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। Bhairab থেকে বিশেষ ট্রেন সকাল ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টায়। অন্যদিকে Mymensingh থেকে বিশেষ ট্রেন ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে কিশোরগঞ্জে পৌঁছাবে। উভয় ট্রেনই দুপুর ১২টায় ফিরতি যাত্রা করবে।
মাঠে মুসল্লিদের সুবিধার্থে ৫০টি অস্থায়ী অজুখানা, ২০টি স্থায়ী টয়লেট, ২০টি ইউরিনাল এবং দুই হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির ভ্যান রাখা হবে। চিকিৎসাসেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের শুধু জায়নামাজ সঙ্গে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রবেশপথে তল্লাশির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে ৬১৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জানান, মাঠে প্রবেশের জন্য ৩২টি চেকপোস্ট, সাতটি আর্চওয়ে গেট এবং ৫০টি মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে ড্রোন ও ভিডিও ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, টর্চলাইট, ম্যাচ কিংবা কোনো ধরনের দাহ্য বস্তু মাঠে আনা যাবে না। মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখা গেলেও তা সাইলেন্ট মোডে রাখতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বোম্ব ডিসপোজাল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তা মো. আলী নোমান জানান, ওয়াচ টাওয়ারে স্নাইপার টিম মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স, রিজার্ভ ফোর্স ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের জামাত চলাকালে শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে পুলিশের নিরাপত্তা চৌকিতে জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ চারজন নিহত হন।
ওই ঘটনার পর থেকেই শোলাকিয়ার ঈদ জামাতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জনশ্রুতি রয়েছে, ১৮২৮ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহে এক লাখ ২৫ হাজার বা ‘সোয়ালাখ’ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন। সেখান থেকেই ‘সোয়ালাখিয়া’ নামটি পরবর্তীতে ‘শোলাকিয়া’ নামে পরিচিতি পায়।
প্রায় দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহে নামাজ আদায় করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়—এমন বিশ্বাসে প্রতি বছর দেশ-বিদেশের লাখো মুসল্লি এখানে সমবেত হন।