06/01/2026 ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রবাহী দ্রুতগামী নৌযান ‘২৭ রজব’ উন্মোচন
odhikarpatra
৩১ May ২০২৬ ২৩:৩৯
প্রকাশিত: ৩১ মে
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইরান তাদের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে নতুন দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌযান ‘২৭ রজব’ উন্মোচন করেছে। রাজধানী তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারে গত শনিবার (৩০ মে) রাতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নৌযানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘২৭ রজব’ নৌযানটি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ নট বা প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। এছাড়া এটি দীর্ঘ-পাল্লার দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন ও নিক্ষেপ করতে পারে, যা প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে।
ইরানি গণমাধ্যমে নৌযানটিকে দেশটির সামুদ্রিক সামরিক শক্তির নতুন প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এমন সময়ে এর উন্মোচন হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিকবার দাবি করেছিলেন যে ইরানের নৌ সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে অথবা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথে ইরানের নৌবাহিনীর অব্যাহত উপস্থিতি দেশটির সামরিক সক্ষমতার ধারাবাহিক উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের ইঙ্গিত বহন করে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক নৌযুদ্ধে শুধু বড় ও ব্যয়বহুল যুদ্ধজাহাজই নির্ধারক ভূমিকা পালন করে না। বরং নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রসজ্জিত, দ্রুতগতির এবং তথ্যনির্ভর অপারেশনাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত ছোট আকারের নৌযানও বড় যুদ্ধজাহাজের জন্য উল্লেখযোগ্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তাদের মতে, সামুদ্রিক প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়ার লক্ষ্যে সশস্ত্র দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌযান উন্নয়ন বর্তমানে অনেক দেশের সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
‘২৭ রজব’ নৌযানটিকেও সেই কৌশলগত ধারণার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর আগে আইআরজিসির বহরে হায়দার ১১০, তারেক, আশুরা, যুলফাগার, সেরাজ, যুলজানাহ, ইয়া মাহদি এবং আজারাখশ শ্রেণির দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌযান যুক্ত রয়েছে।