07/22/2026 ভিসা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম আনলো ভারত
odhikarpatra
১ June ২০২৬ ২৩:৫৪
প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৬ | অধিকার পত্র ডটকম
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি
ভারতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ও নিবন্ধন-সংক্রান্ত নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের বেশি ভারতে থাকতে চাইলে বিদেশিদের আগের তুলনায় আরও আগে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১ জুন জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স রুলস, ২০২৫’-এর ১২ নম্বর বিধি সংশোধন করেছে। সংশোধিত নিয়মে বিদেশিদের অবস্থান, নিবন্ধন এবং প্রশাসনিক তদারকির বিষয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, ১৮০ দিন বা তার কম মেয়াদের ভারতীয় ভিসাধারী বিদেশি নাগরিকদের এখন তাদের নির্ধারিত অবস্থানকাল শেষ হওয়ার আগেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। আগে বিদেশিরা ভারতে অবস্থানের ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর অতিরিক্ত ১৪ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করার সুযোগ পেতেন।
এছাড়া যেসব বিদেশির ভিসার মোট মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি হলেও একটানা অবস্থানের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৮০ দিন নির্ধারিত রয়েছে, তারাও যদি একটানা বা এক ক্যালেন্ডার বছরে ১৮০ দিনের বেশি ভারতে থাকতে চান, তাহলে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
ভারত সরকার বলছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ওপর প্রশাসনিক নজরদারি আরও কার্যকর হবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত অবস্থানের অনুমতি কেবল বিশেষ জরুরি পরিস্থিতিতে বিবেচনা করা হবে। ফলে অতিরিক্ত সময় থাকার সুযোগ আগের তুলনায় সীমিত হয়ে আসবে।
সংশোধিত নিয়মে বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে বাবা-মায়ের একজন বা উভয়েই বিদেশি হলে সন্তানের জন্মের ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক ছিল।
তবে নতুন বিধানে বলা হয়েছে, যদি বাবা-মায়ের একজন ভারতীয় নাগরিক হন এবং সন্তানকে ভারতীয় নাগরিকত্বের আওতায় রাখতে চান, তাহলে জন্মের পর তাৎক্ষণিকভাবে নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না। তবে ভবিষ্যতে সন্তান অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে ৩০ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে তা জানাতে হবে।
এদিকে হাসপাতাল, নার্সিং হোম ও অন্যান্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের জন্যও নতুন রিপোর্টিং বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও আবাসন সুবিধা প্রদান করে, তাদের নির্দিষ্ট তথ্য নিয়মিতভাবে কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করতে হবে।
তবে ভারত সরকার জানিয়েছে, নতুন নিয়মের ফলে হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা কার্যক্রমে কোনো বড় পরিবর্তন আসবে না। বরং তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় অধিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করাই ভারতের নতুন নীতিগত পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।