06/02/2026 ইথিওপিয়ার নির্বাচনে কী ঝুঁকির মুখে?
odhikarpatra
১ June ২০২৬ ২৩:৫৯
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি | অধিকারপত্র ডটকম
আদ্দিস আবাবা, ২ জুন: আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল দেশ ইথিওপিয়ায় অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনকে শুধু ক্ষমতার লড়াই হিসেবে নয়, বরং দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জাতীয় ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক বৈধতার বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রধানমন্ত্রী Abiy Ahmed-এর ক্ষমতাসীন Prosperity Party আবারও বড় জয় পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হলেও নির্বাচন ঘিরে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়ে গেছে।
প্রায় ৫ কোটির বেশি ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। তবে নিরাপত্তা সংকটের কারণে আমহারা, ওরোমিয়া এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়েছে। কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটই অনুষ্ঠিত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ক্ষমতাসীন দলের জয় নয়; বরং ফলাফলকে দেশের বিভিন্ন জাতিগত ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী কতটা গ্রহণ করবে সেটিই মূল বিষয়।
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় Tigray অঞ্চল বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের পরও অঞ্চলটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা পুরোপুরি শেষ হয়নি। তিগ্রাইয়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি Tigray People's Liberation Front নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে থাকায় ওই অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে আমহারা ও ওরোমিয়া অঞ্চলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে অনেক এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিরোধী দলগুলোও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা, গ্রেপ্তার, প্রশাসনিক বৈষম্য এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতার সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। যদিও সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও নির্বাচনটি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির সাফল্য তুলে ধরছে। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত অব্যাহত থাকলে এসব অর্জন দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
আঞ্চলিক রাজনীতিতেও এই নির্বাচনের প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে Eritrea-র সঙ্গে সম্পর্ক, লোহিত সাগরে প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ এবং সীমান্ত উত্তেজনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, অভ্যন্তরীণ সংকট ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা একসঙ্গে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচন ইথিওপিয়ার জন্য শুধু একটি রাজনৈতিক আয়োজন নয়; বরং এটি নির্ধারণ করবে দেশটি সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠন, জাতীয় সমঝোতা ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার পথে কতটা এগোতে পারবে।
#ইথিওপিয়া #আবিয়আহমেদ #নির্বাচন #তিগ্রাই #আফ্রিকা #রাজনীতি #গণতন্ত্র #অধিকারপত্র