06/03/2026 জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
odhikarpatra
৩ June ২০২৬ ০১:১০
প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৬ | অধিকার পত্র ডটকম
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিসকে পরাজিত করে এক বছরের জন্য এ দায়িত্ব লাভ করেন।
গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত ভোটে খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পান, আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিস পান ৯১ ভোট। মোট ১৯০টি ভোট পড়েছিল।
আগামী ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। ওই অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন খলিলুর রহমান।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
এর মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পেল বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৮৬ সালে ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।
খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন জাতিসংঘ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালে জেনেভায় জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন (আঙ্কটাড)-এ বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে প্রায় ২৫ বছর নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনার প্রধান লেখক হিসেবেও কাজ করেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘রেসিপ্রোকাল সাপোর্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট’ (আরএসএ) বা পারস্পরিক ভোট সহায়তা ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশ এ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেয়েছে। মাত্র তিন মাসের পূর্ণমাত্রার প্রচারণা চালিয়েও বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সমর্থন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল। তবে চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি খলিলুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক প্রচারণার মাধ্যমে সমর্থন আদায় করে নেয় বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, সাইপ্রাস ২০১৬ সালে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে এবং প্রায় এক দশক ধরে ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়ে আসছিল।
এই ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে জাতিসংঘের মূলনীতি, বহুপাক্ষিকতা, শান্তি, উন্নয়ন