07/18/2026 বিশ্বকাপের জার্সিতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’: ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল দেশের গৌরব
odhikarpatra
১৭ July ২০২৬ ২১:২৯
নিজস্ব প্রতিবেদক অধিকারপত্র ডটকম
: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১
ঢাকা: ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশ এখনো অংশগ্রহণের সুযোগ না পেলেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে দেশের উপস্থিতি দিন দিন আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। মাঠে বাংলাদেশের জাতীয় দল না থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের গায়ে থাকা জার্সিতে রয়েছে বাংলাদেশের শ্রম, দক্ষতা, প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতার ছাপ।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে বিশ্বকাপের ম্যাচ জার্সি, ট্রেনিং কিট, শর্টস, জ্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের স্পোর্টস অ্যাপারেল। এর মাধ্যমে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প বৈশ্বিক ক্রীড়া বাজারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক সরাসরি এবং আরও কয়েক লাখ মানুষ পরোক্ষভাবে এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। গত দুই দশকে সাধারণ পোশাকের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের স্পোর্টসওয়্যার উৎপাদনেও বাংলাদেশের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শরীফুল আলম বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এখন আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস অ্যাপারেল উৎপাদনে সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখছে। বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে বাংলাদেশে তৈরি জার্সি ব্যবহৃত হওয়া দেশের শিল্পখাতের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি জানান, এ ধরনের অর্ডার রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও শক্তিশালী করবে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অ্যাডিডাস, নাইকি, পুমা, হামেল, নিউ ব্যালেন্স, ম্যাক্রন ও ক্যাপেলির মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে ক্রীড়া পোশাক উৎপাদন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় দল, পেশাদার ক্লাব ও সমর্থকদের জন্য পোশাক তৈরি ও রপ্তানি করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিউইয়র্কভিত্তিক ক্রীড়া ব্র্যান্ড ক্যাপেলি স্পোর্টসের জন্য ঢাকার তুরাগে অবস্থিত গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেড (জিএমএ) কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলের অফিসিয়াল ম্যাচ জার্সি তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি খেলোয়াড়দের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার অফিসিয়াল ম্যাচ জার্সি এবং সমর্থকদের জন্য আরও প্রায় ১৩ হাজার ফ্যান জার্সি রপ্তানি করেছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তৈরি জার্সি ব্যবহৃত হওয়া শুধু রপ্তানি সাফল্য নয়, বরং এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগ। এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের উৎপাদন দক্ষতা, মাননিয়ন্ত্রণ এবং শিল্প সক্ষমতার ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী স্পোর্টসওয়্যার শিল্পের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। দক্ষ শ্রমশক্তি, প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারখানার কারণে বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক স্পোর্টস অ্যাপারেল উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্বকাপের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশে তৈরি জার্সি ব্যবহৃত হওয়া দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো এখন বাংলাদেশকে উচ্চমানের স্পোর্টস অ্যাপারেল উৎপাদনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে, যা ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি আদেশ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বকাপের জার্সিতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ শুধু একটি লেবেল নয়, এটি দেশের শিল্প সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবস্থানের প্রতীক। উচ্চমূল্যের স্পোর্টস অ্যাপারেল উৎপাদনে বিনিয়োগ ও দক্ষতা বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।