07/23/2026 দক্ষিণ লেবাননে ‘পাইলট জোনে’ মোতায়েন শুরু লেবাননের সেনাবাহিনীর, আংশিক প্রত্যাহার ইসরায়েলের
odhikarpatra
২১ July ২০২৬ ২০:১৮
ঢাকা | ২১ জুলাই ২০২৬
দক্ষিণ লেবাননের একটি ‘পাইলট জোনে’ সেনা মোতায়েন শুরু করেছে লেবাননের সেনাবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত মাসে হওয়া ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনী নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে সরে যাওয়ার পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এই মোতায়েন শুরু হয়।
লেবাননের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নাবাতিয়েহ জেলার জাওতার আল-গারবিয়েহ (Zawtar al-Gharbiyeh) গ্রামে সেনা ইউনিট প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে ফ্রাউন (Froun) ও শ্রিফা (Srifa) এলাকাতেও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেনাবাহিনী।
এর আগে সোমবার রাতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, ‘পাইলট জোন’ পরিকল্পনার আওতায় তারা সীমিত এলাকায় সেনা অবস্থান পুনর্বিন্যাস করছে, যাতে লেবাননের সেনাবাহিনী সেখানে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে। তবে ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে, সীমান্তবর্তী ১০ কিলোমিটার গভীর তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ থেকে তারা এখনই পুরোপুরি সরে যাচ্ছে না এবং উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ট্রাইল্যাটারাল ফ্রেমওয়ার্ক’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জাওতার আল-গারবিয়েহ, ফ্রাউন ও শ্রিফা গ্রামে ‘পাইলট জোন’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে রোমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনার ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে জানায় ওয়াশিংটন।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ লেবাননের অবশিষ্ট দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলের পূর্ণ প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ এবং লেবাননের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং তাদের অবৈধ অস্ত্র অপসারণ নিশ্চিত করা।
এদিকে লেবাননের সেনাবাহিনী স্থানীয় বাসিন্দাদের আপাতত জাওতার আল-গারবিয়েহ গ্রামে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলা চালানোর পর নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা ও দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান পরিচালনা করে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে দেশটিতে ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে শত শত নারী, শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের হিসাবে, সংঘাতে ৩৭ জন সেনাসদস্য এবং চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।