07/31/2026 ১৩ বছরের শিশুকে বিয়ে ও সন্তান জন্ম: অপহরণ ও ধর্ষণের মামলার প্রস্তুতি, বললেন আইনজীবী
odhikarpatra
৩১ July ২০২৬ ০৭:২৫
অধিকারপত্র ডটকম প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
একটি ১৩ বছর বয়সী শিশুকে বিয়ে ও সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিশুর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি মিত্র।
তিনি জানান, প্রথমদিকে স্থানীয় থানা থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এদিকে অভিযুক্ত পক্ষ শিশুটির অভিভাবকত্ব চেয়ে আদালতে মামলা করেছে বলে জানতে পারে মেয়েটির পরিবার। পরে শিশুটির মা দেশে ফিরে জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের সহায়তা নেন।
আইনজীবী মৃণাল কান্তি মিত্র বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট শিশুটির বক্তব্য শুনে তাকে উদ্ধার করার নির্দেশ দেন। শিশুটির বয়স বিবেচনায় ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে অভিযুক্ত শাকিল মিয়ার সঙ্গে শিশুটির বিয়ে হয়েছে—এমন দাবির বিষয়ে মৃণাল কান্তি মিত্র বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে এই বিয়ের কোনো বৈধতা নেই। তিনি বলেন, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। ফলে ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর সঙ্গে এ ধরনের বিয়ে আইনসম্মত নয় এবং নোটারি এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে বৈধ হয় না।
তিনি আরও জানান, জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের শুনানিতে অভিযুক্ত পক্ষ তালাকের দাবি তুলে শিশুর অভিভাবকত্ব চাইলে তিনি প্রথমেই ওই বিয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষ্য, “বিয়েটিই যখন আইনি ভিত্তিহীন, তখন তালাকের প্রশ্নই আসে না।”
আইনজীবীর দাবি, এ ঘটনায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হবে।
তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০–এর ২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর সঙ্গে তার সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তা আইনগতভাবে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের মামলার বিচার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে হবে এবং আপসের কোনো সুযোগ নেই।
আইনজীবী মৃণাল কান্তি মিত্র বলেন, নতুন সংশোধিত আইনে অপরাধ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ড—উভয় ধরনের সাজার বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর।
#শিশুবিয়ে #শিশুনির্যাতন #ধর্ষণ #বাংলাদেশ #আইন #অধিকারপত্রডটকম