08/01/2026 জুলাইয়ে কমেছে নারী-শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা, তবে বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা: এমএসএফ
Special Correspondent
৩১ July ২০২৬ ২৩:২৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
চলতী বছরের জুলাই মাসে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা কিছুটা কমলেও, ধর্ষণ এবং আত্মহত্যার মতো গুরুতর অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) সভাপতি সুলতানা কামালের স্বাক্ষরে প্রকাশিত জুলাই ২০২৬-এর নারী, শিশু, মাদক ও অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত সহিংসতার মাসিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
অপরাধের তুলনামূলক চিত্র (জুন বনাম জুলাই ২০২৬)
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুনের তুলনায় জুলাই মাসে সার্বিক সহিংসতার ঘটনা কিছুটা কমলেও অপরাধের ধরন আরও নৃশংস ও জটিল রূপ নিয়েছে।
মোট নির্যাতন: জুনে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ৩২০টি ঘটনা ঘটলেও, জুলাইয়ে তা কমে ৩০৬টিতে নেমেছে। অর্থাৎ সার্বিক ঘটনা প্রায় ৪.৪ শতাংশ কমেছে।
ধর্ষণ: জুনে ৬৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও জুলাইয়ে তা বেড়ে ৯০-এ পৌঁছেছে (প্রায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি)।
আত্মহত্যা: জুনে আত্মহত্যার ঘটনা ছিল ১৭টি, যা জুলাইয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮টিতে (প্রায় ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি)।
যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি: জুনে ২১টি হলেও জুলাইয়ে তা বেড়ে হয়েছে ২২টি।
অপহরণ ও নিখোঁজ: ১২টি থেকে সামান্য বেড়ে জুলাইয়ে হয়েছে ১৩টি।
অ্যাসিড নিক্ষেপ: উভয় মাসেই একটি করে ঘটনা ঘটেছে।
যে সমস্ত অপরাধের সংখ্যা কমেছে
সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে কিছু নির্দিষ্ট অপরাধের সূচক আগের মাসের তুলনায় নিম্নমুখী ছিল:
দলবদ্ধ ধর্ষণ: ১৬টি থেকে কমে হয়েছে ৭টি।
ধর্ষণের পর হত্যা: ৫টি থেকে কমে হয়েছে ৩টি।
ধর্ষণচেষ্টা: ৩৫টি থেকে কমে হয়েছে ৩৪টি।
শারীরিক নির্যাতন: ৫৬টি থেকে কমে হয়েছে ৪২টিতে নেমেছে।
হত্যাকাণ্ড: জুনে ৭৬ জন নারী ও শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেও জুলাইয়ে তা কমে ৫২টিতে দাঁড়িয়েছে।
সালিসে ফৌজদারি অপরাধ মীমাংসা ও নবজাতক উদ্ধার
আইন অমান্য করে সালিসের মাধ্যমে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ মীমাংসার প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এমএসএফ। প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুলাই মাসে ধর্ষণের চেষ্টা ও বলাৎকারের মতো অন্তত তিনটি গুরুতর অপরাধ স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ছিল ধর্ষণচেষ্টার এবং একটি বলাৎকারের ঘটনা। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে।
এছাড়া, জুলাই মাসে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১ জন নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৮ জন মৃত এবং ৩ জন জীবিত ছিলেন। মৃত নবজাতকদের ক্ষেত্রে পুলিশ সাধারণত অপমৃত্যুর মামলা করলেও জীবিতদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অনলাইন জুয়া ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য না থাকলেও ১০ জনকে আটক করা হয়েছে (জুনে কোনো আটকের তথ্য ছিল না)। এমএসএফ একে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখলেও, এর বিস্তার তরুণ সমাজের মধ্যে অর্থনৈতিক শোষণ, পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ও সাইবার অপরাধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়লেও মাদক ব্যবসায় পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র