08/05/2026 প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সিল-স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণা, ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ৫
odhikarpatra
৪ August ২০২৬ ২২:১১
অধিকারপত্র ডটকম : ০৪ আগস্ট ২০২৬ |
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড জাল করে প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. ফারুক হোসেন (৪১), সাকিব খান (২৫), মাসুম মুনসী (৪৫), মীর তৌহিদুল ইসলাম (৩৬) এবং মো. বকুল মণ্ডল (৩৫)।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর কাছে একজন চাকরিচ্যুত কর্মচারীকে পুনরায় চাকরিতে বহাল করার সুপারিশ করে একটি ভুয়া চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী, একাধিক মন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জাল সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়।
ডিবি প্রধান জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর ডিবির সাইবার (দক্ষিণ) বিভাগ তদন্ত শুরু করে। পরে অভিযান চালিয়ে মাদারীপুরের কালকিনি থেকে চারজন এবং কুষ্টিয়া থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, চক্রটি প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকল কর্মকর্তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত চাকরি পুনর্বহালের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সচিব মন্ত্রীকে অবহিত করেন এবং পরে বিষয়টি ডিবির নজরে আসে।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, মূল অভিযুক্ত ফারুক হোসেন একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী। তিনি ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারানোর পর পুনরায় চাকরি ফিরে পাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি এই জালিয়াতি চক্র পরিচালনা শুরু করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ডিবি আরও জানায়, অভিযুক্তরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নামে ভুয়া চিঠি তৈরি করতেন। এমনকি মালদ্বীপে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ সংবলিত জাল চিঠিও তৈরি করা হয়েছিল।
অভিযান শেষে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নামে তৈরি ৪১টি জাল সিল, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংসদ সদস্যদের অফিসিয়াল লেটারহেডের ছয়টি বান্ডিল, প্রতারণায় ব্যবহৃত আটটি মোবাইল ফোন, দুটি কম্পিউটার এবং একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং তারা আর কোথাও একই ধরনের প্রতারণা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।