08/27/2026 এআই সহায়তায় বিশ্বের প্রথম লাইভ ব্রেইন সার্জারি সফল
Special Correspondent
২৭ August ২০২৬ ১৩:১৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। বিশ্বের প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সরাসরি বা 'লাইভ' সহায়তায় এক রোগীর মস্তিষ্কের টিউমার সফলভাবে অপসারণ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হসপিটালের (UCLH) সার্জনরা এই যুগান্তকারী অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন, যা রোগীকে অন্ধত্বের হাত থেকে রক্ষা করেছে।
রোগীর অবস্থা ও টিউমারের জটিলতা
৪৮ বছর বয়সী রিস হিবার্ট, যিনি পেশায় একজন কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার এবং দুই সন্তানের জনক, তিনি এই অস্ত্রোপচারের প্রথম রোগী। মাত্র ১৮ মাস আগেও তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। কিন্তু একদিন হাঁটার সময় তিনি হঠাৎ রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং তার খিঁচুনি শুরু হয়।
পরীক্ষার পর তার মস্তিষ্কের একেবারে গভীরে, মাথার খুলির গোড়ায় থাকা পিটুইটারি গ্রন্থিতে ১১ মিলিমিটারের একটি নন-ক্যান্সারাস (ক্যান্সার নয় এমন) টিউমার ধরা পড়ে।
ঝুঁকি: টিউমারটি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী প্রধান ধমনী (ক্যারোটিড আর্টারি) এবং দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী অপটিক স্নায়ুর খুব কাছাকাছি ছিল।
লক্ষণ: টিউমারের চাপে তার দৃষ্টিশক্তির পরিধি কমে আসছিল এবং তিনি চরম ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও হোঁচট খাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছিলেন।
যেভাবে কাজ করেছে 'এআই (AI)' প্রযুক্তি
এই জটিল অস্ত্রোপচারটি নাকের ভেতর দিয়ে এন্ডোস্কোপ (ক্যামেরাযুক্ত সরু নল) প্রবেশ করিয়ে করা হয়েছিল। যেহেতু টিউমারটি হাড় এবং শক্ত পর্দার আড়ালে লুকিয়ে ছিল, তাই কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু বা রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেটি বের করে আনা সার্জনদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
ঠিক এই জায়গাতেই লাইভ এআই টুলটি তার জাদু দেখিয়েছে:
লাইভ বিশ্লেষণ: টুলটি অস্ত্রোপচারের ভিডিও ফিড সরাসরি বিশ্লেষণ করে এবং সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ট্র্যাক করে।
পথনির্দেশনা: এটি স্ক্রিনে মার্ক করে দেখিয়ে দেয় কোথায় গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী ও স্নায়ু লুকিয়ে আছে এবং ঠিক কোন জায়গা দিয়ে টিউমারটি অপসারণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।
সার্জিক্যাল চ্যাটজিপিটি: শত শত অপারেশনের ভিডিও বিশ্লেষণ করে এই এআই-কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এটি অনেকটা মোবাইলের ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মতোই কাজ করে, তবে এটি চেনে মানবদেহের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও গঠন।
চিকিৎসক ও রোগীর প্রতিক্রিয়া
অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করেন নিউরোসার্জন অধ্যাপক হানি মার্কাস এবং ড্যানিয়াল খান। অধ্যাপক মার্কাস বলেন, একজন সার্জন তার সারাজীবনে যতগুলো অপারেশন দেখেন বা করেন, এই এআই টুলটিকে তার চেয়েও অনেক বেশি অপারেশনের ভিডিও দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এটি অপারেশন থিয়েটারে একজন বিশেষজ্ঞের মতো 'দ্বিতীয় জোড়া চোখ' হিসেবে কাজ করে। তবে তারা নিশ্চিত করেছেন যে, এআই কেবল সহায়তা করছে, অস্ত্রোপচারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সার্জনদের হাতেই ছিল।
অপারেশনের পর রিস হিবার্ট দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। গত আট সপ্তাহে তার দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ ভালো হয়েছে। তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, অপারেশনের পর চোখ খুলে মনে হলো আমি যেন ৩৬০-ডিগ্রি ভিশন ফিরে পেয়েছি। গত এক বছর আমি এত পরিষ্কার দেখিনি। এই সার্জারি আমাকে আমার জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চ এবং গুগলের অর্থায়নে এই প্রযুক্তিটি তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য উদ্ভাবন মন্ত্রী জেমস ফ্রেথ এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে বলেছেন, এআই প্রযুক্তির সঠিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে চিকিৎসাক্ষেত্রে এর সর্বোচ্চ সুবিধা গ্রহণ করা হবে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র