09/06/2026 অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
odhikarpatra
৫ September ২০২৬ ২১:৫৭
দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে এবং সরকার সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে এসব সমস্যাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির কোনো প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামল কিংবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন সমস্যা সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। সেসব সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। তবে সমস্যা রয়েছে—এ কথা অস্বীকার করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে কোনো কোনো দল ও ব্যক্তি মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার পাঁয়তারা চলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তাই গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখা এবং গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতা অনুসরণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইনেই এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে। জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে প্রত্যেকের নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকা উচিত।
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য শিল্পকারখানার মালিকসহ সাধারণ মানুষের কাছে দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিএনপি বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। তাই জ্বালানি সংকটে ভোগান্তিতে থাকা মানুষের কাছে দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন দেশের মানুষকে একই ধরনের সংকটে পড়তে না হয়, সে অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্বৈরাচারী শাসনামলে কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের আড়ালে রেখেছিল দাবি করে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে তাদের কেউ কেউ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা উসকে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের জনগণকে সচেতন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারা কাকে আশ্রয় দিচ্ছে বা কার স্বার্থে কে কাজ করছে—তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
বিএনপিকে জনগণের স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষাকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তাঁর দল এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত থাকবে।
বক্তব্যে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। স্বাধীনতার ঘোষণা, বহুদলীয় গণতন্ত্র, রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক খাতের বিকাশ এবং নারীদের শিক্ষার প্রসারে তাদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই আন্দোলনের মূল কৃতিত্ব দেশের সাধারণ মানুষের। বিএনপি জনগণের সঙ্গে থেকে আন্দোলনকে সফল করতে ভূমিকা রেখেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং বিএনপির ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শনিবারের আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
#অধিকারপত্র #তারেকরহমান #বিএনপি #রাজনীতি #বাংলাদেশ #অরাজকতা