09/07/2026 বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার ইইউর, বাড়তে পারে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ
odhikarpatra
৬ September ২০২৬ ২৩:৩৫
বাংলাদেশকে নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে দেশের প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়াতে ভবিষ্যতে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধার বাইরে থাকা বিভিন্ন প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত অশুল্ক বাণিজ্য বাধা দূর করার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে একটি পূর্বাভাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা নানা চাপের মুখে থাকলেও বাংলাদেশ-ইইউ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আইনের শাসন, ন্যায্য ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি ইইউর অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন।
মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ ও ইইউর পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সমন্বয় প্রয়োজন।
বিদ্যমান বাণিজ্য বাধাগুলো দূর করা সম্ভব হলে দুই পক্ষের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পথ আরও সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে বলেও জানান।
প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, বৈষম্যহীনতা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাণিজ্য বাধা কমানো গেলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরাই এর সুফল পাবেন।
বাংলাদেশের এলডিসি থেকে মসৃণ উত্তরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ইইউ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।