09/07/2026 জীবিত থাকা পর্যন্ত দান করা সম্পত্তি ভোগের সুযোগ রেখে বিল পাস
odhikarpatra
৬ September ২০২৬ ২৩:৪৫
সম্পত্তি দান করার পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন—এমন বিধান রেখে ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পরে কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের আপত্তি ও প্রস্তাব নাকচ হলে বিলটি পাস হয়।
পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ তাঁদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন।
এ ছাড়া দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির গ্রহীতার মৃত্যু হলে, ওই সম্পত্তির ভোগাধিকার বজায় থাকবে এবং আইন অনুযায়ী তা গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।
আইনমন্ত্রী বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই।
প্রস্তাবিত বিধানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দানের এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, নতুন বিধানের ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা কিংবা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। এসব ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন বিধানের কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিও তৈরি হবে না বলে তিনি দাবি করেন।
বিলটি নিয়ে সংসদে আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আইনের উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। তবে তাঁর মতে, প্রস্তাবিত বিধানের সঙ্গে শরিয়তের মূলনীতির বিরোধের বিষয় রয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর আশঙ্কা, আইনটি এভাবে কার্যকর হলে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে এবং প্রকৃত হকদারের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমানও বিলটির বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, সন্তানদের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সামাজিক বাস্তবতার এই সমস্যা সমাধানের প্রয়োজন থাকলেও ইসলামি বিধানকে পাশ কাটিয়ে এর সমাধান করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত আইনে হেবা বা মুসলিম আইনের কোনো বিষয়কে পরিবর্তন করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, বিলে যে ‘গিফট’ বা সম্পত্তি দানের কথা বলা হয়েছে, সেটি হেবা নয়। ফলে হেবা কিংবা অন্য কোনো স্বীকৃত পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই আইন কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। সামাজিক বাস্তবতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই বিলটি আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিল নিয়ে বিতর্কের একপর্যায়ে বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। তবে কিছুক্ষণ পর তাঁরা আবার অধিবেশন কক্ষে ফিরে এসে আলোচনায় অংশ নেন।
শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয় এবং দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়।