09/10/2026 নেত্রকোণায় সারের অনিয়মে জরিমানা, উদ্ধার হলো এক একর খাস জমি
odhikarpatra
৯ September ২০২৬ ২৩:৩৮
জনস্বার্থ রক্ষা, কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে নেত্রকোণার বিভিন্ন উপজেলায় দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জেলার বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ দল এসব অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সার বিক্রিতে অনিয়ম ও সড়ক দখলের অভিযোগে পাঁচটি মামলায় মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর তীর থেকে প্রায় এক একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে।
নেত্রকোণা সদর উপজেলায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে মেসার্স ফকির ব্রাদার্সকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিজা খাতুন এ জরিমানা করেন।
এ সময় সারের মজুদের সঙ্গে হিসাবের অসংগতি এবং ক্রেতাদের বিক্রয় রশিদ না দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেত্রকোণা পৌর এলাকায় সড়ক দখল করে অবৈধভাবে ভাসমান দোকান পরিচালনার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দুটি মামলায় আরও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
কেন্দুয়া পৌরসভায় ডিলারশিপ লাইসেন্স ছাড়া এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে একজনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর আওতায় এ জরিমানা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী।
অন্যদিকে মোহনগঞ্জ উপজেলায় নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে রাজন এন্টারপ্রাইজকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন এ জরিমানা করেন।
অভিযানে প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টারে সারের হিসাবের অসংগতি এবং ক্যাশ মেমোতে ওভাররাইটিংয়ের বিষয়ও পাওয়া যায়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা গ্রহণের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ ছাড়া দুর্গাপুর পৌর এলাকার সোমেশ্বরী নদীর তীরসংলগ্ন তেরীবাজার ঘাটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় এক একর সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নদীর তীরে নির্মিত ১০টি অবৈধ টিনশেড স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থে সারের কারসাজি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধ, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, জনস্বার্থে বাজার তদারকি এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।