09/12/2026 চলমান সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান রিজভীর
odhikarpatra
১২ September ২০২৬ ১৮:৩৯
ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের স্বার্থে যারা কাজ করছেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বিরোধী দল কথা বলবে, সংসদে কথা বলবে, সংসদের বাইরেও কথা বলবে এবং বিভিন্ন কর্মসূচি দেবে। তবে বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কহীন বা অহেতুক বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত হৈচৈ করা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয় না।
তিনি আরও বলেন, ভিন্নমত থাকবে এবং সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনাও থাকবে। তবে সেই সমালোচনা গঠনমূলক হওয়া উচিত; তা যেন অপপ্রচার বা কারও বিরুদ্ধে কলঙ্ক লেপনের পর্যায়ে না যায়।
দেশে গ্যাস, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, মাত্র ছয় মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া সরকার এ সংকটের জন্য দায়ী নয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় পড়েছে।
সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক, অসহায় ও দরিদ্র মানুষ সুবিধা পাচ্ছেন। বয়স্ক ভাতা ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে এবং উপকারভোগীর সংখ্যাও এক লাখ বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রিজভী বলেন, সামাজিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার একের পর এক কাজ করছে। পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করার জন্য কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। তার দাবি, স্বাধীনতার পর খাদ্য সংকট মোকাবিলায় জিয়াউর রহমান গণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে খাদ্য রপ্তানির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
এ সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। তিনি আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং দলটির বিচারের দাবি জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টি কাজী জাফরের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। অনুষ্ঠানে ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।