09/23/2026 ওয়েস্টিনে অধিকারপত্রের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে বিদায়ী আলাপ │ ঢাকার যানজট, হকার আর মানুষের লড়াইয়ে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ দেখলেন নিউজিল্যান্ডের ডিন হাগ বিগসবি
Odhikarpatra News Desk
২২ September ২০২৬ ২০:৩৬
ঢাকার যানজট, শ্রমজীবী মানুষ, informal economy ও বাংলাদেশের গবেষণা-সম্ভাবনা নিয়ে অধিকারপত্রের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে বিদায়ী আলাপে Lincoln University-এর Dean Professor Hugh Bigsby। আলোচনায় উঠে আসে Knowledge Transfer, Technology Transfer ও Bangladesh–New Zealand research collaboration।
কয়েক দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে তাঁর চোখে কী রয়ে গেল?
ঢাকার অসহনীয় যানজট? রাস্তাজুড়ে মানুষের স্রোত? ভোর থেকেই জীবিকার সন্ধানে ছুটে চলা হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ? নাকি এসবের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এমন এক অর্থনৈতিক শক্তি, যাকে সঠিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও নীতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে বদলে যেতে পারে উন্নয়নের গতিপথ?
নিউজিল্যান্ডের Lincoln University-এর Faculty of Agribusiness and Commerce-এর Dean Professor Hugh Bigsby-এর কাছে বাংলাদেশ সফরের শেষবেলার আলোচনায় উঠে এসেছে এই সবগুলো বিষয়ই।
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, রাজধানীর The Westin Dhaka-এর লবিতে অধিকারপত্র ডটকমের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে এক বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন Professor Bigsby। আনুষ্ঠানিক বিদায়ের পরিসর দ্রুতই পরিণত হয় বাংলাদেশ নিয়ে এক বিস্তৃত আলাপচারিতায়—মানুষ, অর্থনীতি, ব্যবসায় শিক্ষা, গবেষণা, নগরায়ণ, নীতিনির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড সহযোগিতা নিয়ে।
বাংলাদেশ সফরে Professor Bigsby-কে সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছে ঢাকার জনঘনত্ব ও নগরজীবনের প্রবল গতি। বিপুলসংখ্যক মানুষ, একের পর এক যানবাহন, রাস্তার দুই পাশে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রতিদিনের নিরন্তর চলাচল—এই নগর বাস্তবতা তাঁর কাছে একই সঙ্গে বিস্ময়কর ও গবেষণাযোগ্য বলে মনে হয়েছে।
বিদায়ী আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার যানজটকে শুধু একটি traffic problem হিসেবে দেখলে এর গভীরতা বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মানুষের সময়, productivity, transport economics, urban planning, employment এবং জীবিকার বাস্তবতা।
একটি শহর কীভাবে এত চাপের মধ্যেও প্রতিদিন চলতে থাকে—সেটিও তাঁর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা-প্রশ্ন।
শুধু বিশ্ববিদ্যালয়, সভাকক্ষ কিংবা আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়—Professor Bigsby-এর নজর গেছে রাস্তার মানুষটির দিকেও। ভোর থেকে কাজ শুরু করা হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহনকর্মী এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের কর্মতৎপরতা তাঁকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।
এই দৃশ্যকে তিনি কেবল দারিদ্র্য বা জীবিকার সংগ্রাম হিসেবে দেখেননি। এর মধ্যে তিনি দেখেছেন informal economy, entrepreneurship, livelihood resilience এবং survival strategy-এর বাস্তব রূপ।
সীমিত সম্পদ, প্রতিকূল নগর পরিবেশ এবং দৈনন্দিন অনিশ্চয়তার মধ্যেও মানুষ যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তা বাংলাদেশের বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক শক্তির পরিচয় বহন করে—এমন পর্যবেক্ষণ উঠে আসে আলোচনায়।
Professor Bigsby-এর বাংলাদেশ-অভিজ্ঞতার অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল এই মানুষকেন্দ্রিক উপলব্ধি: এত পরিশ্রমী একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে এগিয়ে যাওয়ার মৌলিক শক্তি রয়েছে।
তবে তাঁর পর্যবেক্ষণ শুধু আশাবাদে সীমাবদ্ধ ছিল না। বাংলাদেশের মানুষের শ্রম, উদ্যোক্তা মনোভাব এবং টিকে থাকার ক্ষমতা শক্তিশালী হলেও সেই শক্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন effective institutions, quality business education, technology adoption, research এবং evidence-based policy—এ বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
একটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয় যদি একদিকে চলে আর business, industry এবং policy-making অন্যদিকে চলে, তাহলে জ্ঞান ও মানবসম্পদের একটি বড় অংশ কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয় না।
আলোচনায় উঠে আসে—বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত graduate ও গবেষকদের জ্ঞানকে বাস্তব অর্থনীতি, শিল্প, উদ্যোক্তা খাত এবং নীতিনির্ধারণের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
Professor Bigsby-এর সঙ্গে আলাপে business education নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়।
আজকের বিশ্বে একজন business graduate-এর কাজ শুধু accounting, finance, marketing বা management জানা নয়। তাঁকে বুঝতে হবে technology, sustainability, data, innovation, consumer behaviour এবং পরিবর্তিত global economy।
বাংলাদেশের মতো অর্থনীতিতে এই শিক্ষাকে আরও বাস্তবমুখী করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এখানে formal corporate sector-এর পাশাপাশি রয়েছে বিশাল informal economy। রাস্তার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে কৃষক, ছোট উদ্যোক্তা, supply chain operator কিংবা নতুন technology-based enterprise—সবাই মিলে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করছে। ফলে business education-এর ক্ষেত্রেও classroom এবং real economy-এর মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আলোচনায় উঠে আসে।
বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবেও দেখছেন Professor Bigsby। দ্রুত নগরায়ণ, জনঘনত্ব, জলবায়ু ঝুঁকি, কৃষি, নদী, natural resource management, food system, informal economy, entrepreneurship এবং মানুষের adaptation—এখানে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার প্রশ্ন।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান আলোচনায় বলেন, বাংলাদেশকে বোঝার জন্য কয়েক দিনের সফর একটি সূচনা; কিন্তু এ দেশের মানুষের জীবন, অর্থনীতি, কৃষি, নদী, climate vulnerability এবং সামাজিক রূপান্তর নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার বিশাল সুযোগ রয়েছে।
তিনি Professor Bigsby-কে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফিরে এসে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
দুই অধ্যাপকের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় Knowledge Transfer এবং Technology Transfer। কৃষি, agribusiness, food production, sustainability, natural resource management এবং research-based decision making-এ নিউজিল্যান্ডের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হতে পারে। কিন্তু সহযোগিতা যেন একমুখী না হয়—এ বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
বাংলাদেশের রয়েছে নিজস্ব community knowledge, climate adaptation practice, disaster response experience, কৃষকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সীমিত সম্পদ দিয়ে সমস্যা সমাধানের অসংখ্য উদাহরণ। ফলে ‘নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ শিখবে’—এমন সরল ধারণার পরিবর্তে সম্পর্কটি হতে পারে mutual learning partnership।
এক দেশের technology ও research infrastructure, অন্য দেশের complex development experience—এই দুইয়ের সমন্বয়ে নতুন জ্ঞান তৈরি হতে পারে।
আলোচনায় Technology Transfer-এর ধারণাটিও বিস্তৃতভাবে উঠে আসে। প্রযুক্তি হস্তান্তর মানে শুধু কোনো আধুনিক যন্ত্র বা software এক দেশ থেকে আরেক দেশে নিয়ে আসা নয়। এর সঙ্গে জড়িত থাকে skills, technical knowledge, management systems, research methods এবং institutional capacity।
ঠিক একইভাবে Knowledge Transfer-ও কোনো বই বা রিপোর্ট আদান-প্রদান নয়।
একটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কীভাবে কৃষকের মাঠে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, policy-making table-এ কিংবা তরুণ উদ্যোক্তার সিদ্ধান্তে কাজে লাগবে—সেখানেই knowledge transfer-এর প্রকৃত তাৎপর্য।
এই জায়গায় Bangladesh–New Zealand collaboration গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আলোচনায় মত উঠে আসে।
আলোচনার সূত্র ধরে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকদের জন্য একাধিক সম্ভাব্য collaborative research area সামনে আসে। এর মধ্যে রয়েছে—agribusiness and value chain, climate-smart agriculture, natural resource economics, sustainable business, entrepreneurship, food security, urban economy, informal sector, technology adoption এবং climate adaptation।
বিশেষ করে বাংলাদেশের বাস্তব সমস্যাকে কেন্দ্র করে joint field research করা গেলে তা শুধু academic publication-এ সীমাবদ্ধ না থেকে policy এবং practice-এও অবদান রাখতে পারে।
বিদায়ী সাক্ষাতে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান Professor Hugh Bigsby-কে বাংলাদেশ সফরের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি তাঁকে ভবিষ্যতে আবার বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে আরও গভীরভাবে জানতে হলে এ দেশের সাধারণ মানুষের কাছে যেতে হবে, মাঠে যেতে হবে, নদী ও কৃষিকে দেখতে হবে এবং সমাজ ও অর্থনীতির পরিবর্তনকে গবেষণার মাধ্যমে বুঝতে হবে।
Professor Bigsby-এর এই সফরকে ভবিষ্যৎ collaborative research এবং institutional relationship-এর সূচনা হিসেবে দেখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
The Westin Dhaka-এর লবিতে দুই অধ্যাপকের সাক্ষাৎ শেষ হয়েছে করমর্দনে। কিন্তু আলোচনায় যে প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে, সেগুলো সেখানেই শেষ হওয়ার নয়।
Professor Hugh Bigsby-এর বাংলাদেশ সফরের শেষবেলার আলাপ যেন এসব প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে এনেছে।
বাংলাদেশকে তাঁর চোখে শুধু যানজট, জনসংখ্যা বা সমস্যার একটি দেশ হিসেবে দেখা যায়নি; বরং মানুষের শ্রম, resilience, entrepreneurship এবং অমীমাংসিত গবেষণা-প্রশ্নে ভরা এক সম্ভাবনাময় সমাজ হিসেবেই উঠে এসেছে।
আর সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে গবেষণা, জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং পারস্পরিক শেখার একটি দীর্ঘমেয়াদি সেতু গড়ে উঠতে পারে—এই প্রত্যাশাই ছিল বিদায়ী আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
#HughBigsby #LincolnUniversity #Bangladesh #NewZealand #OdhikarPatra #KnowledgeTransfer #TechnologyTransfer #ResearchCollaboration #BusinessEducation #Dhaka #Agribusiness #HigherEducation #BangladeshNewZealand #Research #Innovation