09/26/2026 জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগ: লিগ্যাল অফিসার পদটির কাজ কী?
odhikarpatra
২৫ September ২০২৬ ২১:১৩
অধিকার পত্র ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ও ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এ নিয়োগের পর তার দায়িত্ব, যোগ্যতা ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকায় জাইমা রহমানের নাম ও পদবি উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সভাপতির কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে কাজ করবেন।
বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তার কার্যালয়ের ৪০ সদস্যের টিমে জাইমা রহমান ছাড়াও আরও পাঁচজন বাংলাদেশি রয়েছেন।
লিগ্যাল অফিসার মূলত সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে বিভিন্ন আইনি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সভাপতির সিদ্ধান্ত যাতে জাতিসংঘের সনদ, বিধি ও প্রচলিত রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতে এই কর্মকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ পরিষদের কোনো প্রস্তাব বা রেজুলেশন কীভাবে উত্থাপন করা হবে, কোনো সদস্যরাষ্ট্র পয়েন্ট অব অর্ডার তুললে সভাপতির কী ধরনের রুলিং দেওয়া উচিত এবং কোনো প্রস্তাবের সংশোধনী গ্রহণযোগ্য কি না—এসব বিষয়ে লিগ্যাল অফিসার সভাপতিকে আইনি পরামর্শ দিতে পারেন।
এ ছাড়া কোনো প্রস্তাব জাতিসংঘের বিদ্যমান বিধি বা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, কিংবা বাজেটসংক্রান্ত কোনো প্রস্তাবের ক্ষেত্রে অন্য কোনো কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন কি না—এসব বিষয়ও পর্যালোচনা করতে পারেন লিগ্যাল অফিসার।
ফিলিস্তিন, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সাধারণ পরিষদে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সভাপতিকে নিরপেক্ষভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় আইনি কাঠামো ও পূর্ববর্তী নজির সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়াও এই দায়িত্বের অংশ।
এ ছাড়া জাতিসংঘের মূল আইন বিভাগ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইনি সংস্থার সঙ্গে সভাপতির কার্যালয়ের সমন্বয়, আন্তর্জাতিক চুক্তি বা আইনি বিষয়ে সভাপতির বক্তব্যের খসড়া তৈরিতে সহায়তা এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক আইনি কাজেও লিগ্যাল অফিসার যুক্ত থাকতে পারেন।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে জাতিসংঘের স্থায়ী কর্মীদের পাশাপাশি সভাপতি তার নিজস্ব এখতিয়ার অনুযায়ী কিছু ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে পারেন।
তবে এ ধরনের পদে দায়িত্ব পালনের জন্য শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার একটি মানদণ্ড থাকে। সাধারণত আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি, জাতিসংঘের কার্যক্রম বা সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের এ ধরনের দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানকে ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের দ্য অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি করার যোগ্যতার স্বীকৃতি পেয়েছেন।
বাংলাদেশে তিনি তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেট হিসেবেও কাজ করছেন বলে সভাপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।
তার পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে যুক্তরাজ্যে আবাসন, জনকল্যাণ ও শ্রম আইন নিয়ে কাজ করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ, জনসংযোগ এবং সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষা আইনে প্রো বোনো কাজের অভিজ্ঞতার কথাও সেখানে বলা হয়েছে।
সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, ডিজিটাল নিরাপত্তা, বিচার পাওয়ার অধিকার, শিক্ষা ও লিঙ্গসমতা নিয়েও তার কাজের আগ্রহ রয়েছে বলে ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, লিগ্যাল অফিসার হিসেবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা জাইমা রহমানের রয়েছে। তার মতে, এই দায়িত্ব জাইমা রহমানের জন্য আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করার এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি সুযোগ।
তিনি আরও বলেন, সভাপতির আইনি বিষয়ে সহায়তার কাজটি এককভাবে করতে হয় না; প্রয়োজনে একটি টিমও এ কাজে যুক্ত থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে জাইমা রহমানের দায়িত্ব মূলত সভাপতিকে আইন, বিধি, প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক আইনি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া এবং সভাপতির কার্যালয়ের কার্যক্রমকে জাতিসংঘের আইন ও প্রচলিত রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সহায়তা করা।