09/27/2026 বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতে বিদেশি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা চলছে: মামুনুল হক
odhikarpatra
২৫ September ২০২৬ ২৩:৩৩
বাংলাদেশের বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতে বিদেশি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ খাত ভিনদেশি শক্তির হাতে তুলে দিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী বাণিজ্যকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা চট্টগ্রামের সিআরবি মাঠে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সুহাইল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আলী উসমান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ।
এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু সাইদ নোমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির এবং বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান।
মামুনুল হক বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ‘৩৬ জুলাই’ বাংলাদেশের মানুষ নতুনভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে শুধু আওয়ামী লীগের ক্ষমতার অবসান হয়নি, বাংলাদেশ থেকে আধিপত্যবাদের শেকড়ও উপড়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বাইরে থেকে পরাজিত শক্তির অপতৎপরতা আবারও চলছে। এসব অপতৎপরতা মোকাবিলা করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের সাত মাস পূর্ণ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মামুনুল হক বলেন, তারা সাত মাস পর্যন্ত লংমার্চের জন্য অপেক্ষা করেছেন। তবে তাঁর অভিযোগ, গণভোটের পর দেশের জনগণের সঙ্গে ‘গাদ্দারি’ করতে সাত দিনও অপেক্ষা করা হয়নি।
তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যে রাজনৈতিক ঐক্য তৈরি হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা নষ্ট করা হয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রসঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত করার অঙ্গীকার ছিল।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় পরিবর্তন না আনা হলে বিদ্যমান সংবিধান ও ব্যবস্থার অধীনে ক্ষমতায় যাওয়া যে কেউ পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারেন।
বাণিজ্য ও জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে মামুনুল হক অভিযোগ করেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস খাত ভিনদেশি শক্তির হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে দেশের রপ্তানিমুখী বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ও ছাত্র-জনতা আন্দোলনের মাধ্যমে যে বিদেশি আধিপত্যকে উৎখাত করেছে, সেই আধিপত্য নতুন করে দেশে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে মামুনুল হক বলেন, তিনি যদি শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ করেন, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ তাঁর সঙ্গেও শেখ হাসিনার মতো আচরণ করবে।
একইসঙ্গে সরকারকে রাজপথে গড়ে ওঠা ঐক্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে জুলাই আন্দোলনের অভিপ্রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির।