09/27/2026 ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর ইরানি আইনপ্রণেতার হুঁশিয়ারি
odhikarpatra
২৭ September ২০২৬ ০৬:১৮
অধিকারপত্র ডটকমের অনলাইন প্রতিবেদক:
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন ইরানের এক আইনপ্রণেতা।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য মোজতবা জারেই শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সামরিক চাপ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জারেইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের বক্তব্যগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সমাধানের পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপের পথও বিবেচনা করছে। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বক্তব্য; যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন হামলার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিনি উল্লেখ করেননি।
ইরানি এই আইনপ্রণেতা আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর আবার হামলা চালায়, তাহলে তেহরানের প্রতিক্রিয়া আগের চেয়ে আরও ব্যাপক ও কঠোর হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে ইরান সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে—এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি প্রস্তাব দেয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।
তবে শনিবার ট্রাম্প ইরানের ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানান। এর পরই ইরানের অভ্যন্তর থেকে নতুন করে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসে।
এদিকে, ইরানের প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাবটি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে বিভিন্ন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। ফলে প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। তাই প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং ইরানি আইনপ্রণেতার পাল্টা হুঁশিয়ারির পর এখন কূটনৈতিক আলোচনা কতটা এগোয় এবং সামরিক উত্তেজনা কোন দিকে যায়, সেটিই আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে।
ফক্স নিউজ