09/28/2026 রূপরেখার কয়েকটি শর্তে মতানৈক্য, সাত ইসলামি দলের ঐক্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি
odhikarpatra
২৭ September ২০২৬ ২২:১৭
অধিকারপত্র ডটকম, রাজনৈতিক ডেক্স :বিশেষ প্রতিবেদক :
কওমি ধারার সাতটি ইসলামি দলের প্রস্তাবিত রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হলেও রূপরেখার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নিয়ে এখনো মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি দলগুলো। ফলে সাত দলের প্রস্তাবিত ঐক্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
রোববার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় সাত দলের প্রতিনিধিদের বৈঠকে ঐক্যের খসড়া রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সাত দলের পক্ষ থেকে মোট ৩৫ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
বৈঠকে সাতদলীয় ঐক্যের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব কে হবেন, কমিটির মেয়াদ শেষে নেতৃত্ব কীভাবে পরিবর্তন হবে এবং কোনো দল অন্য রাজনৈতিক জোটে থাকলে বা ভবিষ্যতে নতুন কোনো জোটে যুক্ত হতে চাইলে তার ক্ষেত্রে কী ধরনের শর্ত থাকবে—এসব বিষয় নিয়ে ভিন্নমত উঠে আসে।
ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ২৪ সদস্যের একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
কমিটিতে সাতটি দলের প্রত্যেকটি থেকে তিনজন করে প্রতিনিধি এবং হেফাজতে ইসলামের আরও দুজন নেতা থাকবেন। সাত দলকে দুই দিনের মধ্যে নিজেদের প্রতিনিধিদের নাম হেফাজতের মহাসচিবের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।
আগামী ২২ অক্টোবর ঢাকায় বৈঠক করে ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত সাতদলীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় রয়েছে—
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, বৈঠকে প্রত্যেক দল নিজেদের মতামত তুলে ধরেছে। ঐক্য গঠনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তবে কিছু বিষয়ে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন হওয়ায় লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার সকাল ১১টার দিকে বাবুনগর মাদ্রাসায় বৈঠক শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। প্রতিটি দলের পাঁচজন করে প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নেন।
এ ছাড়া কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মাহফুজুল হক এবং ঐক্য চূড়ান্ত করার জন্য হেফাজতে ইসলামের গঠিত উপকমিটির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে উপকমিটির তৈরি করা ঐক্যের খসড়া রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। এরপর প্রতিটি দল নিজেদের ফোরামে আলোচনা করে খসড়াটি নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ পায়। পরে দলগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব ও আপত্তির বিষয় তুলে ধরা হয়।
বৈঠক সূত্রের বরাতে জানা যায়, সাতদলীয় ঐক্যের প্রথম পর্যায়ে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব হিসেবে কারা দায়িত্ব পালন করবেন, ছয় মাস পরপর কমিটির পরিবর্তন কীভাবে হবে এবং কোনো দল অন্য রাজনৈতিক জোটে থাকলে বা ভবিষ্যতে নতুন কোনো জোটে যেতে চাইলে তার ক্ষেত্রে কী শর্ত প্রযোজ্য হবে—এসব বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকা কয়েকটি দলের নেতাদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সময়ের সঙ্গে দলগুলোর জোট ও রাজনৈতিক সমঝোতার ধরন পরিবর্তিত হয়। ফলে কোনো রাজনৈতিক দলের অন্য দল বা জোটের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা যাবে না—এ ধরনের শর্ত বাস্তবসম্মত হবে কি না, সেটিও আরও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সাত দলের রাজনৈতিক ঐক্য প্রক্রিয়ায় হেফাজতে ইসলামের ভূমিকা কতটা থাকবে, তা নিয়েও দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
কয়েকজন নেতা মনে করেন, ঐক্য চূড়ান্ত হওয়ার পর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে হেফাজতে ইসলামের সরে থাকা উচিত। তাদের যুক্তি, হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিজস্ব ফোরামের স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন।
একটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতার মতে, অরাজনৈতিক কোনো সংগঠন রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরাসরি যুক্ত থাকলে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে ঐক্যের ক্ষেত্রে হেফাজতকে দলগুলোর মধ্যে বিরোধ বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে সমন্বয়কারী বা ‘ছায়া’ হিসেবে রাখার বিষয়ে আলোচনা থাকতে পারে।
হেফাজতে ইসলামের গঠিত সাত সদস্যের উপকমিটি ইতিমধ্যে সাত দলের কাছ থেকে ঐক্যের রূপরেখা নিয়ে প্রস্তাব সংগ্রহ করে একটি খসড়া তৈরি করেছে। সেই খসড়ার ভিত্তিতেই রোববারের বৈঠকে আলোচনা হয়।
উপকমিটির সদস্য মুফতি বশির উল্লাহ বলেন, সাত দলের ঐক্য প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। কিছু বিষয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন হওয়ায় লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পরবর্তী আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করবে।
ফলে সাত ইসলামি দলের রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের উদ্যোগ এগিয়ে গেলেও নেতৃত্ব কাঠামো, জোট-সম্পর্ক এবং হেফাজতে ইসলামের ভূমিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ঘোষণা আসছে না।