10/12/2026 নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতায় ‘জিরো টলারেন্স’ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
odhikarpatra
১২ October ২০২৬ ১৮:৩৫
অধিকারপত্র ডটকম বিশেষ প্রতিনিধি :
সোমবার ১২ অক্টোবর ২০২৬,
ঢাকা: নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরাম যৌথভাবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, অনলাইন জগৎ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সব জায়গায় কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
‘কন্যাশিশুকে বোঝা নয়, সম্ভাবনা হিসেবে দেখুন’
অভিভাবকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুকে বোঝা হিসেবে না দেখে সম্ভাবনা হিসেবে দেখতে হবে। ছেলে ও মেয়েকে সমান মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের সম্মান করতে শেখাতে হবে।
মেয়েদের বিয়ের জন্য সঞ্চয়ের আগে তাদের শিক্ষা ও কল্যাণে বিনিয়োগ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কন্যাশিশুর জন্ম কোনো বোঝা নয়, বরং অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা। শিক্ষা তাদের মৌলিক অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
দুই কন্যার পিতা হিসেবে প্রতিটি কন্যাশিশুর মধ্যে নিজের সন্তানদের মুখ দেখতে পান উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা তাঁর কাছে শুধু সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নয়, গভীর মমতারও বিষয়।
শিশু বিয়ে বন্ধের আহ্বান
এ বছরের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিশু বিয়ের কারণে একটি মেয়ের শৈশব থেমে যেতে পারে, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয় এবং তার সম্ভাবনার অপচয় ঘটে। এর সঙ্গে অকাল মাতৃত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ও সহিংসতার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।
কন্যাশিশু নির্যাতন ও নিপীড়ন প্রতিরোধে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করা এবং প্রয়োজনীয় হেল্পলাইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
কন্যাশিশুদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া, শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। অন্যায় বা নির্যাতনের শিকার হলে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পাশাপাশি আত্মরক্ষার জন্য মার্শাল আর্ট শেখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
নারী শিক্ষা ও নিরাপত্তায় খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ
বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন। নারী শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, নারীদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি ও বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ তৈরিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
নারীর নিরাপত্তা ও উন্নয়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সরকারি দলের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। প্রতিটি কন্যাশিশু যেন নিরাপদে জন্ম নেয়, নির্ভয়ে বেড়ে ওঠে, স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করে, দক্ষতা অর্জন করে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে—এমন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান। আরও বক্তব্য দেন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম এবং এনজিসিএএফের সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার ডলি।
এর আগে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শারমিন জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি দুই কন্যাশিশু তাদের মতামত তুলে ধরে।