10/15/2026 চীনের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শামা ওবায়েদ, সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা
odhikarpatra
১৫ October ২০২৬ ০১:০৮
কুটনৈতিক প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বড় অবকাঠামো প্রকল্পের বাইরেও দুই দেশের অংশীদারত্বকে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে ঢাকায় চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউইন এবং বিসিসিসিআইয়ের সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলমও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
সহযোগিতার নতুন দশকের প্রত্যাশা
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সরকার আগামী দশকে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী। শিল্পের বিকাশ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমৃদ্ধি অর্জনে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করার প্রত্যাশা রয়েছে সরকারের।
তিনি বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্প ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা চলে আসছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির অভিন্ন প্রত্যাশার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ বছরের চীন সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদ ইসলাম চীনের শিল্প ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা নেওয়ার সুযোগের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, উৎপাদন, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহযোগিতা বাড়ানো দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি চীনা বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের
অনুষ্ঠানে চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউইন বলেন, চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারকে দেশ পরিচালনায় সমর্থন করে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের পক্ষে।
তিনি জানান, উৎপাদন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও পর্যটনের মতো সম্ভাবনাময় খাতে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
দুই দেশের শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ বাড়ানো এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
ড. লিউ ইউইন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়ে চীন সমর্থন অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বছর
২০২৬ সালে বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫১তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। একই বছর দুই দেশের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতার ১০ বছর পূর্ণ হচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পারস্পরিক আস্থা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে।
: বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বে নতুন সম্ভাবনা, সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা শামা ওবায়েদের
: #শামাওবায়েদ #বাংলাদেশচীনসম্পর্ক #চীনেরজাতীয়দিবস #চীনা_বিনিয়োগ #অর্থনৈতিকসহযোগিতা #অধিকারপত্রডটকম