10/15/2026 প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ: তিন আসামির দুই দিনের রিমান্ড
odhikarpatra
১৫ October ২০২৬ ১৭:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামির প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন—মো. আকাশ আহম্মেদ সামির ওরফে আবদুল্লাহ (২৫), মো. শাখাওয়াত হোসেন (৪৮) ও মো. নুর নবী (৩০)।
কী ঘটেছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে?
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর তেজগাঁও থানা এলাকায় জাহাঙ্গীর গেট থেকে আগারগাঁওগামী লিংক রোডের মাথায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সংলগ্ন সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এর আগে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এর একটি বিস্ফোরিত হয় এবং অন্যটি ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট নিষ্ক্রিয় করে। ঘটনাটি তদন্তে নেয় পুলিশ।
বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা
ঘটনার দিনই তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. মাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।
ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার এজাহারে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের বিরুদ্ধে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তবে এজাহারে থাকা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই।
সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. আব্দুর রহিম গত ১১ অক্টোবর তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
সেদিন আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং রিমান্ড শুনানির জন্য ১৫ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করেন।
বৃহস্পতিবার শুনানির দিন আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনির হোসাইন সুমনসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত প্রত্যেক আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং এর পেছনে অন্য কেউ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।