10/17/2026 ছেলের কবরে প্রতিদিন গোলাপ রাখতেন কে? ক্যামেরায় ধরা পড়ল মেয়ের পরিচয়
odhikarpatra
১৬ October ২০২৬ ২০:২০
অধিকারপত্র ডটকম অনলাইন ডেস্ক :
নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
সন্তান হারানোর শোকের সঙ্গে যোগ হয়েছিল পরিবারের আরেক সদস্যের দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা। মৃত ছেলের কবরের ওপর প্রতিদিন একটি করে লাল গোলাপ কে রেখে যাচ্ছেন, তা জানতে গিয়ে এক দম্পতির সামনে আসে তাঁদের হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আবেগঘন গল্প। এমনই একটি কাহিনি প্রকাশ করেছে Tipgalore, যা Richouses-এ প্রকাশিত হয়েছিল বলে সাইটটি উল্লেখ করেছে।
১৮ বছর বয়সেই ছেলেকে হারান মেরি ও পিটার
গল্প অনুযায়ী, মেরি ও পিটারের ছেলে মাইকেল মাত্র ১৮ বছর বয়সে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন তাঁরা। শেষকৃত্যের পরও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি এই দম্পতি।
প্রতিদিন ছেলের কবরের কাছে যেতেন তাঁরা। সঙ্গে নিয়ে যেতেন ফুল ও স্মৃতিচিহ্ন। সেখানে বসে ছেলের সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা মনে করতেন, নিজেদের দিনের গল্পও যেন ছেলেকে শোনাতেন।
কিন্তু একসময় কবরের ওপর অচেনা একটি লাল গোলাপ দেখতে পান তাঁরা।
প্রতিদিন নতুন গোলাপ, বাড়তে থাকে রহস্য
প্রথমে বিষয়টিকে কোনো অপরিচিত মানুষের সৌজন্য বলে মনে করেছিলেন মেরি ও পিটার। কিন্তু গোলাপটি শুকিয়ে গেলে আবার নতুন একটি গোলাপ দেখা যেত। ফুলের রংও একই—লাল।
অন্য কোনো কবরের ওপর এমন গোলাপ চোখে না পড়ায় তাঁদের কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। কে নিয়মিত মাইকেলের কবরের ওপর ফুল রেখে যাচ্ছেন, তা জানার সিদ্ধান্ত নেন পিটার।
স্ত্রী মেরি গোপনে ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্তে আপত্তি জানালেও পিটার এক রাতে কবরস্থানে গিয়ে একটি নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপন করেন। মেরিও পরে বিষয়টি বুঝতে পারেন, তবে তিনিও জানতে চাইছিলেন অচেনা ব্যক্তিটির পরিচয়।
ক্যামেরার ফুটেজে রহস্যময় নারী
গল্পে বলা হয়েছে, কবরস্থানের ব্যবস্থাপক পরে ক্যামেরাটির বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে সেটি সরিয়ে ফেলেন। কবরস্থানের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত নিয়মের কারণে ক্যামেরাটি পুলিশের কাছে দেওয়ার কথা থাকলেও ব্যবস্থাপক দম্পতির জন্য ফুটেজের একটি কপি রেখে দেন।
ভিডিওটি দেখতে গিয়ে অবশ্য তাঁদের নতুন সমস্যায় পড়তে হয়। ফাইলটি ঠিকমতো চলছিল না। প্রযুক্তিবিদ ও ডেটা পুনরুদ্ধার বিশেষজ্ঞের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত ভিডিওর কিছু অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সেই ফুটেজে দেখা যায়, কালো পোশাক পরা এক নারী মাইকেলের কবরের কাছে এসে একটি লাল গোলাপ রেখে যাচ্ছেন। তাঁর মুখ স্পষ্ট দেখা না গেলেও পোশাক, লম্বা ঢেউখেলানো চুল ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য দেখে মেরি ও পিটারের মনে হয়, নারীটি তাঁদের পরিচিত।
অনেক বছর ধরে তাঁরা ওই নারীকে দেখেননি। কিন্তু তাঁর পরিচয় বুঝতে পেরে দম্পতির মনে নতুন প্রশ্ন জাগে—কেন তিনি গোপনে ছেলের কবরের কাছে আসছেন?
কবরস্থানে মুখোমুখি, তারপর আবেগঘন পুনর্মিলন
গল্প অনুযায়ী, মেরি ও পিটার ওই নারীর সঙ্গে দেখা করার আশায় কবরস্থানে অপেক্ষা করতে থাকেন। একসময় লাল গোলাপ হাতে একটি গাড়ি এসে থামে। গাড়ি থেকে নামা নারীকে তাঁরা চিনতে পারেন।
নারীটির নাম নোয়া। তাঁকে দেখে মেরি এগিয়ে যান, আর পিটারও তাঁকে আলিঙ্গন করেন। দীর্ঘদিনের দূরত্ব যেন মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে। তিনজনই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
কবরস্থানের ব্যবস্থাপক জানতে পারেন, নোয়া আসলে মেরি ও পিটারের মেয়ে—মাইকেলের বোন।
কেন পরিবার থেকে দূরে ছিলেন নোয়া?
প্রকাশিত গল্পের বর্ণনা অনুযায়ী, কৈশোরে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন নোয়া। এরপর নিজের জীবন নিয়ে আলাদা হয়ে যান পরিবারের কাছ থেকে। দীর্ঘ সময় পর ভাই মাইকেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি মা-বাবার কাছে ফিরে আসতে চাইলেও তাঁরা তাঁকে গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চিত ছিলেন।
মাইকেলের শেষকৃত্যে গিয়ে মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁরা তাঁকে চিনতে পারেননি বলে নোয়া মনে করেছিলেন, তাঁকে হয়তো আর পরিবারের অংশ হিসেবে দেখতে চান না তাঁরা।
তবু ভাইয়ের স্মৃতি তাঁকে টেনে নিয়ে যেত কবরস্থানে। নিজের পরিচয় প্রকাশ না করেই তিনি প্রতিদিন মাইকেলের কবরের ওপর একটি লাল গোলাপ রেখে আসতেন।
হারানো সম্পর্ক ফিরে পাওয়ার গল্প
নোয়ার পরিচয় প্রকাশের পর মেরি ও পিটার তাঁকে ফিরে পেয়ে আনন্দিত হন। তাঁরা বুঝতে পারেন, দীর্ঘদিনের দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি তাঁদের পরিবারকে আলাদা করে রেখেছিল। পুনর্মিলনের মধ্য দিয়ে তাঁরা নতুন করে একসঙ্গে থাকার এবং মাইকেলের স্মৃতি ধরে রাখার অঙ্গীকার করেন।
গল্পটি পরিবার, শোক, বিচ্ছিন্নতা ও ক্ষমার আবেগকে সামনে আনে। তবে এটি একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কাহিনি; এখানে বর্ণিত ঘটনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তাই একে নিশ্চিত বাস্তব ঘটনা বা যাচাইকৃত সংবাদ হিসেবে নয়, বরং অনলাইনে প্রকাশিত আবেগঘন গল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
সূত্র:Tipgalore; সাইটটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মূল গল্পটি Richouses-এ প্রকাশিত হয়েছিল।
ছেলের কবরে প্রতিদিন লাল গোলাপ! ক্যামেরায় ধরা পড়ল সেই নারী, পরিচয় জানার পর কেঁদে ফেললেন মা-বাবা
ছেলের কবরের ওপর প্রতিদিন একটি করে লাল গোলাপ কে রেখে যায়—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ক্যামেরা বসিয়েছিলেন শোকাহত বাবা।
ফুটেজে দেখা গেল, কালো পোশাক পরা এক নারী নীরবে এসে গোলাপ রেখে যাচ্ছেন। তাঁকে চিনতে পেরে অবাক হয়ে যান মা-বাবা। কারণ, ওই নারী আর কেউ নন—বহু বছর ধরে পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা তাঁদের মেয়ে নোয়া!
কেন গোপনে ভাইয়ের কবরের কাছে যেতেন নোয়া? কীভাবে শেষ পর্যন্ত ফিরে পেলেন পরিবারকে?
একটি আবেগঘন অনলাইন গল্প, যেখানে শোকের পাশাপাশি উঠে এসেছে বিচ্ছিন্নতা, ভালোবাসা ও পুনর্মিলনের কথা।
#অধিকারপত্র #আবেগঘনগল্প #পারিবারিকসম্পর্ক #মা_বাবারভালোবাসা #মানবিকগল্প #জীবনেরগল্প