10/25/2026 বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চলছে, অভিযোগ রুহুল কবির রিজভীর
odhikarpatra
২৪ October ২০২৬ ২৩:৩৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকার পত্র ডটকম
বাংলাদেশে সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ভাষা ও সংস্কৃতির পরিচিত রূপ পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। তবে এ ধরনের আগ্রাসন প্রতিরোধের সক্ষমতা বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট: স্বরূপ সন্ধান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।
ভাষার পরিচিত শব্দ পরিবর্তনের অভিযোগ
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে পরিকল্পিতভাবে নতুন কিছু শব্দ যুক্ত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত শব্দ বাদ দিয়ে নতুন শব্দ ও প্রকাশভঙ্গি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর বক্তব্যে ‘খুন’, ‘রক্ত’ ও ‘লাশ’-এর মতো প্রতিষ্ঠিত শব্দের পরিবর্তে অন্য শব্দ ব্যবহারের প্রসঙ্গও উঠে আসে।
তিনি বলেন, ভাষার জন্য রক্ত দেওয়ার ইতিহাস এবং দীর্ঘ সংগ্রামের ঐতিহ্য বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শক্তি তৈরি করেছে।
জাতীয়তাবাদ ও ইতিহাসের প্রসঙ্গ
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা উনিশ শতকের ‘বেঙ্গল রেনেসাঁ’ নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন। তাঁর মতে, ওই নবজাগরণ তৎকালীন সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম কৃষক সমাজের শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারের বিষয়গুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি।
রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঐতিহাসিক নানা ঘটনা এবং ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয় এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা বিকশিত হয়েছে।
বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
ইতিহাসের বিভিন্ন সংকটকালে একশ্রেণির বুদ্ধিজীবীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদের সময় অনেক বুদ্ধিজীবী ক্ষমতাসীনদের তোষামোদ করেছেন এবং গুম, নিখোঁজ ও ভোটাধিকার হরণের মতো বিষয় নিয়ে সোচ্চার হননি।
তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীরা সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন এবং সত্য কথা বলেন।
সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বান
রিজভী বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি, জাতীয় পরিচয় ও ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনার জন্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের একত্র হওয়া ইতিবাচক উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজন জাতীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে এবং দেশের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার প্রচেষ্টাকে জোরদার করতে পারে।
সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুল লতিফ মাসুম।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক ড. মুস্তাফা মজিদ। এ ছাড়া শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা আলোচনায় অংশ নেন।
‘ভাষা ও সংস্কৃতি বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে’—সেমিনারে রিজভীর অভিযোগ
এসইও কীওয়ার্ড: রুহুল কবির রিজভী, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্য, মাহবুবউল্লাহ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বিএনপির সংবাদ
: #রুহুলকবিররিজভী #সাংস্কৃতিকআগ্রাসন #বাংলাদেশেরসংস্কৃতি #বিএনপি #জাতীয়তাবাদ #অধিকারপত্রডটকম