10/26/2026 অন্যের ভাঙচুরের দায়েও বিক্ষোভকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করার প্রস্তাব; সমালোচনায় মানবাধিকার সংগঠন ও বামপন্থী রাজনীতিকেরা
odhikarpatra
২৬ October ২০২৬ ১৯:০২
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকারপত্র ডটকম
ফ্রান্সে বিক্ষোভের সময় ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে কোনো বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অন্যের করা ভাঙচুরের দায়েও সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত অর্থ দিতে বাধ্য করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের আইন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদেরও আর্থিক ঝুঁকিতে ফেলবে এবং জনসমাবেশ ও প্রতিবাদের মৌলিক অধিকার সংকুচিত করবে। তবে আইনটির সমর্থকদের বক্তব্য, ভাঙচুর ও সহিংসতার দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
মেরিন লে পেনের সমর্থন
ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) দলের নেতা মেরিন লে পেন প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) ওর্লেয়াঁ শহরে নির্বাচনী সমাবেশে তিনি ফ্রান্সে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন।
সমাবেশে লে পেন বলেন, ভাঙচুরকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; প্রয়োজন হলে তাঁদের সারা জীবন ধরে সেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
আগামী বসন্তে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে এনে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। তবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তহবিল আত্মসাতের মামলায় তাঁর দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়টিও রাজনৈতিক আলোচনায় রয়েছে।
বিরোধীদের আশঙ্কা
বামপন্থী রাজনীতিক এরিক ককেরেল বলেছেন, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিতে ভয় পেতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, অন্য কারও ভাঙচুরের দায় নিজের ওপর আসার ঝুঁকি থাকলে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদেও অংশগ্রহণ কমে যাবে।
কমিউনিস্ট সিনেটর ফাবিয়াঁ গে-ও প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, এর ফলে ফ্রান্সে বিক্ষোভ আয়োজন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়ন ও ফ্রান্সের মানবাধিকার সংগঠন লিগ অব হিউম্যান রাইটস এক খোলা চিঠিতে প্রস্তাবিত আইন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, আইনটি প্রতিবাদের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আঘাত হানতে পারে।
রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন বিতর্ক
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়, জনসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে নতুন এই প্রস্তাব এসেছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, সহিংসতার দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে গিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের অধিকারও কি সীমিত হয়ে পড়বে?
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বিতর্ক এখন ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিক স্বাধীনতার ভারসাম্য নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
**সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান,
: #France #MarineLePen #Protest #HumanRights #অধিকারপত্রডটকম