10/27/2026 বগুড়ায় ৪৫ দিনের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ৭৮০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী
odhikarpatra
২৬ October ২০২৬ ২৩:৪২
অধিকারপত্র ডটকম, বগুড়া প্রতিনিধি :
বগুড়ার শাজাহানপুরে ৪৫ দিনের এক নবজাতককে সঙ্গে নিয়ে বিশেষ কৌশলে হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটে লুকিয়ে ইয়াবা বহনের অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তাঁদের কাছ থেকে ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, দুটি মুঠোফোন ও ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত দুটি অ্যাংলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোছা. সারমিন খানম (২৫) ও তাঁর স্বামী সোহাগ মৃধা (৩১)। তাঁদের স্থায়ী বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায়। তাঁরা ঢাকার মিরপুর-১ এলাকার মধ্যপাইকপাড়া, আহম্মদনগরে বসবাস করতেন বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরাতে প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়েছে।
যেভাবে উদ্ধার করা হয় ইয়াবা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বগুড়া জেলা কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিচালক মো. জিললুর রহমানের নেতৃত্বে একটি মাদকবিরোধী দল ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের নয়মাইল জামালপুর এলাকায় অবস্থান নেয়।
পরে ঢাকা থেকে বগুড়াগামী আর কে ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। বাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১২৯৫। বাসের এফ-১ ও এফ-২ আসনে বসা ওই দম্পতিকে তল্লাশি করে মাদক উদ্ধার করা হয়।
অভিযান-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সারমিন খানমের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটের সঙ্গে কালো স্কচটেপে মোড়ানো ২০টি প্যাকেটে ৪ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। একইভাবে বাম পায়ের হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটে লুকানো আরও ১৯টি প্যাকেটে পাওয়া যায় ৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা।
সব মিলিয়ে ৩৯টি প্যাকেটে ৭ হাজার ৮০০ পিস কমলা রঙের অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন প্রায় ৭৬০ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৩ লাখ টাকা।
জব্দ দুটি মুঠোফোন
অভিযানে মাদক বহন ও ব্যবসায় ব্যবহারের অভিযোগে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ভিভো ও অন্যটি অপো ব্র্যান্ডের ফোন বলে অভিযানের বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ইয়াবা লুকিয়ে বহনে ব্যবহৃত দুটি সাদা রঙের অ্যাংলেটও জব্দ করা হয়।
স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলার তথ্য
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরাতে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা, কোনো মামলায় তাঁর দণ্ড হয়েছে কি না কিংবা গ্রেপ্তার দম্পতির বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী মামলাগুলোর বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. সামসুল আলম বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
চালানের পেছনে কারা, চলছে তদন্ত
উদ্ধার করা ইয়াবার চালানের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে অধিদপ্তর।