10/28/2026 মেয়াদ শেষের পরও জিএস পরিচয়ে চিঠি দিলেন আম্মার, আপত্তি উপাচার্যের
odhikarpatra
২৭ October ২০২৬ ২৩:৪৪
রাবি প্রতিবেদক | অধিকার পত্র ডটকম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পরিচয়ে কোষাধ্যক্ষকে চিঠি দিয়েছেন সাবেক জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। এ ঘটনায় রাকসুর পদবি ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উল ইসলাম বলেছেন, রাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন আর পদবির পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ নেই; জরুরি প্রয়োজনে ‘সাবেক’ পরিচয় উল্লেখ করতে হবে।
সমকালের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাকসুর মেয়াদ গত ২৫ অক্টোবর শেষ হয়। এর দুই দিন পর, ২৭ অক্টোবর, ‘রাকসু সাধারণ সম্পাদক’ পরিচয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেতাউর রহমানকে চিঠি দেন সালাহউদ্দিন আম্মার। চিঠিতে পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাত কর্মদিবসের মধ্যে তফসিল ঘোষণার দাবি
কোষাধ্যক্ষকে দেওয়া চিঠিতে আম্মার উল্লেখ করেন, রাকসুর ষষ্ঠ অধিবেশনে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, খসড়া সংবিধান পর্যালোচনা, সংশোধন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায়িত্ব কোষাধ্যক্ষকে দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর দাবি, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য প্রতিনিধিদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে যাবতীয় ভাউচার জমা দেওয়া এবং নিজ নিজ দাপ্তরিক কক্ষ কোষাধ্যক্ষের দপ্তরের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আম্মার জানান, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ও স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তাঁরা নির্দেশনা মেনে নিতে প্রস্তুত।
একই সঙ্গে পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তফসিল সাত কর্মদিবসের মধ্যে ঘোষণার দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের কাছে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা বর্তমান প্রতিনিধিদের দায়িত্বের অংশ।
‘তফসিল ঘোষণার এখতিয়ার কোষাধ্যক্ষের নেই’
আম্মারের চিঠির বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, আম্মার এখন সাবেক জিএস। তিনি কীভাবে জিএস পরিচয় দিয়েছেন, তা তাঁর জানা নেই। কোষাধ্যক্ষ আরও বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের; এ ক্ষেত্রে তাঁর সেই এখতিয়ার নেই।
তবে রাকসুর সহসভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সমকালকে বলেন, রাকসুর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়নি। এ কারণে আম্মার চিঠি দিতে পারেন বলে তাঁর মত। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, চিঠিটি আম্মার ব্যক্তিগতভাবে দিয়েছেন; এর সঙ্গে রাকসুর পূর্ণাঙ্গ কমিটির সংশ্লিষ্টতা নেই।
ভর্তি পরীক্ষার পর নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা
উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উল ইসলাম বলেন, রাকসুর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন রাকসুর কোনো পদে থাকার পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ নেই; জরুরি ক্ষেত্রে ‘সাবেক’ পরিচয় উল্লেখ করতে হবে।
রাকসুর মেয়াদকালে আর্থিক নথি ও অডিট প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, মেয়াদের শেষ সময়ে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের তহবিল-সংক্রান্ত কিছু ফাইল অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। এ কারণে মেয়াদের মধ্যে অডিট সম্পন্ন হয়নি। সংশ্লিষ্টরা সব বিষয় সমন্বয় করে নথি জমা দিলে বিধি অনুযায়ী অডিট করা হবে বলে জানান তিনি।
পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় এ সময় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না। ভর্তি পরীক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।