10/28/2026 কুয়াকাটায় এমপি মাসুদ সাঈদীর ইস্তাম্বুল রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করল প্রশাসন
odhikarpatra
২৮ October ২০২৬ ১৪:৫০
আপনার দেওয়া আরটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, নওগাঁয় প্রথম স্ত্রীর আপন ছোট বোনকে বিয়ে করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা মাসুদ রানাকে ঘিরে নতুন ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সালিশ বৈঠকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা ও শ্বশুর মান্নান সাপুরে ক্ষমা চেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি লেখার সময় সালিশে দেওয়া বক্তব্য, তালাকের ঘোষণা এবং আইনগতভাবে তালাক কার্যকর হওয়ার বিষয়—এগুলোকে আলাদা করে উপস্থাপন করা জরুরি।
# এবার ক্ষমা চাইলেন মাসুদের ‘শ্যালিকা’, কান ধরে তওবা শ্বশুরের
**উপশিরোনাম:** নওগাঁয় স্থানীয় সালিশে ক্ষমা প্রার্থনা পূর্ণিমা ও মান্নান সাপুরের; এলাকা থেকে উচ্ছেদ না করার অনুরোধ, মাসুদের তালাকের ঘোষণার পর নতুন পরিস্থিতি
**নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকার পত্র ডটকম**
নওগাঁয় প্রথম স্ত্রীকে বহাল রেখে তাঁর আপন ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা মো. মাসুদ রানাকে ঘিরে নতুন ঘটনা ঘটেছে। এবার স্থানীয় সালিশ বৈঠকে ক্ষমা চেয়েছেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা ও শ্বশুর মান্নান সাপুরে। একই সঙ্গে নিজেদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা।
আরটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগা ইউনিয়নের নারায়ণপুরের বিরামগ্রামে মাসুদের শ্বশুরবাড়ির উঠানে এ সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে পূর্ণিমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। তিনি জানান, মাসুদ রানার সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখবেন না। এমনকি তাঁর সঙ্গে টিকটক ভিডিও তৈরি কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি তাঁদের এলাকা থেকে উচ্ছেদ না করার জন্য স্থানীয়দের কাছে অনুরোধ জানান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ণিমা তাঁর বোন মৌসুমীর সঙ্গে মাসুদের দীর্ঘদিনের সংসারের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে তিনি মাসুদকে ছেড়ে দেবেন।
অন্যদিকে, মাসুদের শ্বশুর মান্নান সাপুরে উপস্থিত লোকজনের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান। তিনি কান ধরে ও নাকে মাটি দিয়ে তওবা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিজেকে সংশোধনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয়দের শাসনে তিনি ভালো হয়ে যাবেন। তাঁদের বসতবাড়ি থেকে যেন উচ্ছেদ করা না হয়, সে অনুরোধও জানান তিনি।
### যেভাবে আলোচনায় আসে বিয়ের ঘটনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নওগাঁর বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন মাসুদ রানা। গত ২৪ অক্টোবর সেখানে তাঁদের গায়েহলুদ অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ২৫ অক্টোবর তিনি প্রথম স্ত্রীর আপন ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর দুই স্ত্রীকে নিয়ে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
এর জেরে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন মাসুদ। তাঁকে মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
পরদিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ফেসবুক লাইভে এসে মাসুদ নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। একই সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমাকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
### সালিশে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রতিনিধিরা
আরটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সালিশ বৈঠকে রাইগা ইউনিয়নের সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল ইসলাম, বর্তমান সদস্য আখতার হোসেন, লোকমান রেজোয়ান আরিফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে মাসুদ রানার দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সামাজিক বিতর্কের পাশাপাশি তাঁর তালাকের ঘোষণা আইনগতভাবে কার্যকর হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই তালাকের ঘোষণা এবং তালাক কার্যকর হওয়ার বিষয়টিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
**সূত্র:** আরটিভি নিউজ, ২৮ অক্টোবর ২০২৬।
### এসইও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
এসইও শিরোনাম: নওগাঁয় মাসুদের শ্যালিকা পূর্ণিমা ও শ্বশুরের ক্ষমা প্রার্থনা, সালিশে তওবা
ফেসবুক ভাইরাল শিরোনাম: মাসুদের শ্যালিকা এবার ক্ষমা চাইলেন, কান ধরে তওবা শ্বশুরের!
এসইও কীওয়ার্ড: মাসুদ রানা, পূর্ণিমা, মৌসুমী, নওগাঁর ভাইরাল ঘটনা, মাসুদের শ্যালিকা, মান্নান সাপুরে, মহাদেবপুর সালিশ, মাসুদের তালাকের ঘোষণা।
হ্যাশট্যাগ: #মাসুদরানা #পূর্ণিমা #নওগাঁ #ভাইরালনিউজ #সালিশ #অধিকারপত্রডটকম
তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক: মাসুদের তালাকের ঘোষণা ও সালিশে পূর্ণিমার বক্তব্য আলাদা ঘটনা। তালাক আইনগতভাবে সম্পন্ন হয়েছে—এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া না গেলে শিরোনাম বা প্রতিবেদনে তাঁকে তালাকপ্রাপ্ত বলা উচিত নয়। এ ছাড়া সালিশে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি আরটিভির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে; স্বাধীনভাবে ঘটনাস্থলে যাচাই করা হয়নি।
অধিকারপত্র ডটকম | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় নির্মাণাধীন ‘ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকা এবং কুয়াকাটার মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) অনুযায়ী জমিটির নির্ধারিত ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির চেয়ারম্যান পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী।
অনুমোদন ছাড়া নির্মাণের অভিযোগ
নির্মাণকাজ বন্ধ করার পর প্রকল্প এলাকায় নিষেধাজ্ঞার ব্যানার টাঙিয়ে দেয় কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন। ব্যানারে উল্লেখ করা হয়, যথাযথ অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণের কারণে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিতে প্রকল্পটি গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ছয় একর জমি সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরাও করা হয়েছে। সেখানে মসজিদ ও কনভেনশন হল নির্মাণের কাজও চলছিল।
মাস্টারপ্ল্যানে রেলওয়ের স্থাপনার জন্য নির্ধারিত জমি
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেকের ভাষ্য অনুযায়ী, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয়। এ ছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে সংশ্লিষ্ট জমি রেলওয়ের স্থাপনার জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এসব কারণেই নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিএস জরিপ অনুযায়ী জমিটি কুয়াকাটা পৌরসভার আওতাধীন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সেখানে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। এর আগেও রিসোর্টটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তা মানেননি বলে তিনি দাবি করেন।
বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশনার পর পদক্ষেপ
ইউএনও জানান, সোমবার বিভাগীয় কমিশনার কুয়াকাটা পরিদর্শনের সময় এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক কে, সেটি বিবেচ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্পটি পিরোজপুরের একজন সংসদ সদস্য নির্মাণ করছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে এ বিষয়ে ওই সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো কথা হয়নি।
পাওয়া যায়নি প্রকল্পের চেয়ারম্যানের বক্তব্য
ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের স্থানীয় প্রতিনিধি মনির মুসুল্লি জানান, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না; কলাপাড়ায় অবস্থান করছিলেন। এ কারণে তিনি এ বিষয়ে তথ্য দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, প্রকল্পের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে নির্মাণকাজ বন্ধের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজ বন্ধের মূল কারণ প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাব এবং কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে জমিটির নির্ধারিত ব্যবহারের বিষয়টি। তবে প্রকল্পের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুয়াকাটায় এমপি মাসুদ সাঈদীর রিসোর্টের কাজ বন্ধ, জমি নিয়ে কী বলছে প্রশাসন?
কুয়াকাটায় নির্মাণাধীন ‘ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর কাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা এবং মাস্টারপ্ল্যানে জমিটি রেলওয়ের স্থাপনার জন্য নির্ধারিত থাকার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রকল্পটির চেয়ারম্যান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
বিস্তারিত পড়ুন অধিকার পত্র ডটকমে।
#কুয়াকাটা #মাসুদসাঈদী #ইস্তাম্বুলরিসোর্ট #পটুয়াখালী #জামায়াত #বাংলাদেশসংবাদ #অধিকারপত্রডটকম