11/03/2026 গৃহবধূর গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, মুন্সীগঞ্জে সাবেক ইমাম গ্রেপ্তার
odhikarpatra
২ November ২০২৬ ২১:৩৩
অধিকার পত্র ডটকম | ২ নভেম্বর ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে এক গৃহবধূর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে নূর আলম শেখ (৩২) নামে এক মসজিদের সাবেক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলার শ্রীনগর উপজেলার একটি মাদ্রাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত একটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়। প্রথম আলো, দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলা ট্রিবিউন ও যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদনেও গ্রেপ্তারের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রথম আলো +3
শিশুকে পড়ানোর সূত্রে পরিচয়, পরে সম্পর্কের অভিযোগ
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নূর আলম শেখ টঙ্গিবাড়ী উপজেলার একটি জামে মসজিদে প্রায় দেড় থেকে দুই বছর ইমামতি করেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় একটি বাড়িতে গিয়ে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্মীয় শিক্ষা দিতেন তিনি। এ সূত্রে শিশুটির মায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পুলিশের ভাষ্য।
অভিযোগ রয়েছে, ওই নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কিছু মুহূর্ত গোপনে ভিডিও ধারণ করেছিলেন নূর আলম। প্রায় এক মাস আগে বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটি তাঁকে ইমামতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় এবং এলাকা ছাড়তে বলে।
ভিডিও পাঠিয়ে দেখা করার চাপ দেওয়ার অভিযোগ
পুলিশের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এলাকা ছাড়ার পরও ওই গৃহবধূকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। একপর্যায়ে ধারণ করা ভিডিওটি ওই নারীর পরিবারের একজন সদস্যের কাছে অনলাইনে পাঠানোর অভিযোগ ওঠে।
পাশাপাশি ওই গৃহবধূকে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। দেখা না করলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। Somoyer Konthosor +2
শ্রীনগরের মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার
অভিযোগের তথ্য পাওয়ার পর মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. কামরান হোসেনের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক অর্জুন কুমার দাশের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নূর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
যে আইনে মামলা হয়েছে
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) কামরান হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় টঙ্গিবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। প্রথম আলো +1
ঘটনাটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানি এবং নারীর নিরাপত্তার গুরুতর প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ভিডিওকে হাতিয়ার করে কাউকে ভয় দেখানো বা বাধ্য করার অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের বিষয়।
### তথ্য যাচাই ও সম্পাদনা
একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মিলিয়ে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে:
* অভিযুক্তের নাম ও বয়স: নূর আলম শেখ, ৩২ বছর।
* বাড়ি: গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা।
* বৈবাহিক অবস্থা: বিবাহিত, চার সন্তানের বাবা।
* গ্রেপ্তার: ১ নভেম্বর ২০২৬, রাত সাড়ে ৮টা।
* গ্রেপ্তারের স্থান: শ্রীনগর উপজেলার একটি মাদ্রাসা।
* উদ্ধার: অভিযুক্তের ব্যবহৃত মুঠোফোন।
* মামলা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগত পার্থক্য: কোনো প্রতিবেদনে তাঁর ইমামতির সময় প্রায় ১৮ মাস, আবার কোনো প্রতিবেদনে প্রায় দুই বছর বলা হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়কাল নিশ্চিত না করে প্রতিবেদনে দেড় থেকে দুই বছর উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো পুলিশের বক্তব্য ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদননির্ভর; আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো পাওয়া যায়নি।
: ধর্মীয় শিক্ষা দিতে গিয়ে পরিচয়, পরে গোপন ভিডিও দিয়ে হুমকির অভিযোগ—মুন্সীগঞ্জে ইমাম গ্রেপ্তার
#মুন্সীগঞ্জ #টঙ্গিবাড়ী #ইমামগ্রেপ্তার #ব্ল্যাকমেইল #নারীরনিরাপত্তা #ডিবিপুলিশ #সাইবারহয়রানি #অধিকারপত্রডটকম
।