অধিকার পত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক
জেরুজালেম, ৪ নভেম্বর ২০২৬:.যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের প্রাণহানির ঝুঁকি কমাতে রোবটের ব্যবহার বাড়াচ্ছে ইসরায়েল। বিশেষ করে লেবাননের সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এখন সেনাদের পাশাপাশি রোবট ও চালকবিহীন স্থলযান ব্যবহার করছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ড ও ডিভিশন ৯১ পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানিয়েছেন আইডিএফের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম *দ্য জেরুজালেম পোস্ট*-এর সাংবাদিক ইয়োনাহ জেরেমি ববের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের প্রবেশের আগে রোবট পাঠানো হচ্ছে, যাতে শত্রুপক্ষের হামলায় সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা কমানো যায়।
জামির বলেন, ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় আইডিএফের সেনাদের সব সময় সামনে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সেনাদের ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সুড়ঙ্গ ও বিস্ফোরক পেতে রাখা ভবনে রোবট
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য বিস্ফোরক পেতে রাখা সুড়ঙ্গ ও আবাসিক ভবনে সেনাদের প্রবেশের আগে বিশেষ ধরনের রোবট পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা করেছে আইডিএফ।
এসব রোবটের মাধ্যমে বিপজ্জনক স্থানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে সেনাদের সরাসরি বিপজ্জনক স্থানে প্রবেশের প্রয়োজনীয়তা কমানো সম্ভব হবে।
হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে রোবট ও ড্রোনের ব্যবহার
উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযানে সেনাদের সঙ্গে রোবটের সমন্বিত ব্যবহার বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জামির। একই সঙ্গে বড় ও ছোট সামরিক ইউনিটে কৌশলগত ড্রোনের ব্যবহারও সম্প্রসারণ করছে ইসরায়েলি বাহিনী।
এ ছাড়া দূরনিয়ন্ত্রিত স্থলযান শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে ব্যবহার কিংবা সেনাদের সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য কাজে লাগানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহ এবং দক্ষিণে হামাসের বিরুদ্ধে অভিযানে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
যুদ্ধের ধরনে প্রযুক্তির প্রভাব
আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন, রোবট ও চালকবিহীন সামরিক যান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং সেনাদের প্রবেশের আগে পরিস্থিতি যাচাইয়ে এসব প্রযুক্তি সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করতে পারে।
ইসরায়েলের সর্বশেষ উদ্যোগে স্পষ্ট হচ্ছে, দেশটির সামরিক কৌশলে মানবসেনার পাশাপাশি দূরনিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়ছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা কার্যকর হবে এবং বাস্তবে সেনাদের প্রাণহানি কতটা কমাতে পারবে, তা নির্ভর করবে এর সক্ষমতা ও অভিযানের পরিস্থিতির ওপর।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট, ৪ নভেম্বর ২০২৬।
