✍️ বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা শেষ সময়েও চূড়ান্ত হয়নি। জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েনের কারণেই নির্ধারিত সময়েও সমঝোতা ঝুলে আছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ১১ দলের মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে ৮টি দলের আসন সমঝোতা সম্পন্ন হলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ১১টা পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের শুরা কাউন্সিল বৈঠক চলছিল। অপরদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বুধবার সকালে শুরা কাউন্সিলের বৈঠক ডেকেছে।
তবে জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সকালেই জোটভুক্ত শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এ বিষয়ে মিত্র দলগুলোকেও জানানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আসন সমঝোতার আলোচনায় শুরুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১০০টির বেশি আসনে প্রার্থী দেওয়ার দাবি করেছিল। আলোচনার ধারাবাহিকতায় সেই দাবি কমিয়ে সর্বশেষ ৫০টির বেশি আসন চেয়েছে দলটি। তবে জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ ৪০টি আসনে ছাড় দিতে রাজি, যা নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দলটির একাংশ মনে করছে, ৪০–৪৫ আসনে সমঝোতা সম্ভব হলেও বড় একটি অংশ কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে সমঝোতা পুনর্বিবেচনার পক্ষে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন ও যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা শুরা কাউন্সিল বৈঠকে থাকার কথা জানিয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সূত্রে জানা গেছে, দলটি ২৫ থেকে ৩০টি আসনের দাবি জানালেও জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ ২০টি আসন ছাড় দিতে চায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক দফা বৈঠক হলেও এখনো সমঝোতা হয়নি। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে যেসব আসনে ছাড় দেওয়া হবে না, সেখানে প্রার্থী উন্মুক্ত রাখার চিন্তাও রয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, জামায়াতের সঙ্গে আবার বৈঠক হবে, সেই বৈঠকেই আসন সমঝোতার চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের জানান, লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। দু-একটি আসন নিয়ে যে জটিলতা রয়েছে, তা শীর্ষ নেতাদের আলোচনায় সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, জামায়াত যে আসন বণ্টনের প্রস্তাব দিয়েছে—
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ৪০টি আসন
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ৩০টি আসন
- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ১৫টি আসন
- খেলাফত মজলিস: ৭টি আসন
- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি): ৪–৭টি আসন
- আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি): ৩টি আসন
- বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি): ২টি আসন
এই প্রস্তাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ছাড়া অন্য দলগুলো সম্মতি জানিয়েছে বলে জানা গেছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: