নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখন আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে। একদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ অন্যদিকে দেশের ভেতরে তীব্র গণঅসন্তোষ। সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। এর মধ্যেই ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের জন্য ধেয়ে আসছে মৃত্যুদণ্ড ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের মতো ভয়াবহ সব হুঁশিয়ারি।
শাসকের হুঁশিয়ারি: আমরা তোমাদের খুঁজে বের করব
ইরানের পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদরেজা রাদান এক কঠোর বার্তায় জানিয়েছেন যারা বিদেশি শত্রুদের প্ররোচনায় রাস্তায় নামবে, তাদের সরাসরি 'শত্রু' হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি বলেন আমাদের সব বাহিনীর আঙুল এখন ট্রিগারে। আমরা বিপ্লব রক্ষায় এবং যেকোনো বিদ্রোহ দমনে প্রস্তুত। একই সুরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের (চ্যানেল থ্রি) এক উপস্থাপক সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন সংশয় ও উত্তেজনার ধুলো যখন থিতিয়ে আসবে। তখন আমরা তোমাদের প্রত্যেকের কাছে পৌঁছাব। শুধু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত নয় তোমাদের এবং তোমাদের পরিবারকে চরম মূল্য দিতে হবে তা তোমরা দেশের ভেতরে থাকো বা বাইরে।
দেশের বাইরে থেকে চূড়ান্ত ডাক
অন্যদিকে নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভি এক ভিডিও বার্তায় জনগণকে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইরানিদের জরুরি রসদ মজুত করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য রাস্তা ছেড়ে বাড়িতে অবস্থান করুন। ধর্মঘট চালিয়ে যান এবং রাতের বেলা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে সংহতি জানান। তিনি দেশটির সামরিক বাহিনীকে দমনের পথ ছেড়ে জনগণের কাতারে শামিল হওয়ার এটাই শেষ সুযোগ বলে মন্তব্য করেন।
যুদ্ধের ময়দান যখন তেহরানের রাস্তায়
বুধবার তেহরানের নিরাপত্তা চৌকিগুলোতে সন্দেহভাজন ইসরায়েলি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ১০ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করে গণবিক্ষোভের পথ সুগম করতেই এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি ইরানি জনগণের উদ্দেশে বলেছেন আয়াতুল্লাহদের শাসন উৎখাত করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের এটাই অনন্য সুযোগ।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা: তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন এবং ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে।
- ভয়াবহ দমনপীড়ন: সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিক্ষোভে প্রায় ৭,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করছে।
- আইনি সতর্কতা: ইরানের প্রসিকিউটর জেনারেল অফিস জানিয়েছে, ইসরায়েল বা অন্য কোনো শত্রু রাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা করলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।
ইরানের সাধারণ মানুষ এখন এক দোটানায়। একদিকে গত কয়েক দশকের শাসনের অবসান ঘটানোর আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে জানমালের চরম ঝুঁকি। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ এখন কেবল সীমান্তের যুদ্ধক্ষেত্রে নয় বরং তেহরানের অলিগলিতে সাধারণ মানুষের সাহসের ওপরও নির্ভর করছে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: