odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 26th April 2026, ২৬th April ২০২৬
এফবিআই ও স্টেট ডিপার্টমেন্ট খুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তৎপর মার্কিন পুলিশ। সোয়াট টিমের অভিযানে ধরা পড়ল হিশাম

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী খুন: মাদারীপুরে শোকের মাতম, বিচারের দাবি

Special Correspondent | প্রকাশিত: ২৬ April ২০২৬ ০১:০০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ২৬ April ২০২৬ ০১:০০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। নিহতরা হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর এলাকার নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) এবং তার বন্ধু জামিল লিমন (২৭)। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘারবিয়েহকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস।

নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধার

গত ১৬ এপ্রিল ইউএসএফ ক্যাম্পাস থেকে লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হন। দীর্ঘ তল্লাশির পর গত শুক্রবার ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃষ্টির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা না গেলেও সন্দেহভাজনের অ্যাপার্টমেন্টে প্রচুর রক্তের নমুনা দেখে পুলিশ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানান পুলিশ তাদের নিশ্চিত করেছে যে তার বোন আর বেঁচে নেই।

নাটকীয় গ্রেপ্তার অভিযান

সন্দেহভাজন হিশামকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। শুক্রবার সকালে হিশাম তার বাড়িতে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখলে সোয়াট (SWAT) টিম এবং মধ্যস্থতাকারীদের তলব করা হয়। পরে স্নাইপার ও সাঁজোয়া যানের উপস্থিতিতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপন আলামত নষ্ট এবং মরদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

পারিবারিক আহাজারি

বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের খোয়াজপুরে এখন শোকের মাতম। বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন জানান ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন বৃষ্টি। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন। তার চাচা দানিয়াল আকন বলেন আমাদের মেয়ে আর বেঁচে নেই। আমরা এখন শুধু বৃষ্টির লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

প্রশাসনের বক্তব্য

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব এ বিষয়ে বলেন, আমি বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। দূতাবাস এ ক্ষেত্রে মূল কাজ করবে। পরিবার কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মায়ামি কনস্যুলেট সার্বক্ষণিক স্থানীয় পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: