odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 24th January 2026, ২৪th January ২০২৬

নড়াইলের বাঁশবাগানে ফেলে যাওয়া বয়োবৃদ্ধ মা দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরলেন!

Mahbubur Rohman Polash | প্রকাশিত: ১ November ২০১৮ ১৫:৩১

Mahbubur Rohman Polash
প্রকাশিত: ১ November ২০১৮ ১৫:৩১

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: আজ-বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) অবশেষে নড়াইলের বয়োবৃদ্ধ মা হুজলা বেগমকে (৮৬) বাড়িতে ফিরিয়ে নিলেন সন্তানেরা। আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে হুজলাকে বাড়িতে নিয়ে যান তার ছেলে বাবু শেখসহ অন্য সন্তানেরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন(পিপিএম), ও বিভিন্ন পেশার মানুষ।


জানা যায়, বয়োবৃদ্ধ মা হুজলা বেগমকে ভরণ পোষণ দিতে পারবেন না, এমন অজুহাতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে নড়াইলের কুচিয়াবাড়ি গ্রামে রাস্তার পাশে বাঁশবাগানে
মাকে ফেলে দেন বাবু শেখ ও তার স্ত্রী। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক
তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশের সহযোগিতায় হুজলা বেগমকে উদ্ধার করে গত ২৯ সেপ্টেম্বর
লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নড়াইল সদর
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে গতকাল বুধবার (৩১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে হাসপাতাল থেকে হুজলাকে বাড়িতে নিয়ে যান তার সেই ছেলে বাবু শেখসহ অন্য সন্তানেরা।


জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, হাসপাতালের বেডে শুয়ে হুজলা বেগম বারবার বাড়িতে ফেরার আকুতি করছিলেন। এ ক্ষেত্রে তার
সন্তানেরাও মাকে যথাযথ ভাবে দেখার প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন আমাদের কাছে। আর যদি তার
সন্তানেরা প্রতিশ্রæতি রক্ষা না করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।
জানা যায়, বয়োবৃদ্ধ মা হুজলার ভরণ-পোষণ দিতে পারবেন না; এমন অজুহাতে গত ২৬
সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে নড়াইলের কুচিয়াবাড়ি গ্রামে রাস্তার পাশে বাঁশবাগানে ফেলে
দেয় তার মেঝো ছেলে বাবু শেখ ও পূত্রবধূ। তবে প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় বাঁশবাগান
থেকে উদ্ধার করে ওইদিন ভোরে হুজলার নাতবউ তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। হুজলা বেগমের তিন
ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামী সামাদ শেখ মারা যাওয়ার পর ছেলে-
মেয়েরা আলাদা সংসার শুরু করেন। আর হুজলা বেগম বিভিন্ন সময়ে ছেলে ও মেয়েদের সংসারে
জীবনযাপন করে আসছিলেন। কিন্তু, হঠাৎ করে মায়ের ভরণ-পোষণ কে নেবেন, এ বিষয়ে
সন্তানদের মধ্যে মত-বিরোধের সৃষ্টি হয়। শেষপর্যন্ত কোনো সন্তানই তার মাকে তাদের

সংসারে ঠাঁই দিতে চায়নি। এক পর্যায়ে হুজলাকে বাঁশবাগানে ফেলে দেয়া হয়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: